রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মহাখালী-বেলতলী এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, অবৈধ বাণিজ্য ও নিজস্ব বিচার-শালিসের নামে নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিচয় ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের লেবাস বদলে পুরোনো প্রভাবশালীদের একটি অংশ ফের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে আলোচনা ছিল, তাদের কয়েকজন বর্তমানে এলাকা ছাড়া। তবে মোজাম্মেল ওরফে ‘খড়ম পাগলা’ ও তার দুই ভাইকে ঘিরে নতুন করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে।
অটো গ্যারেজ ও স্টিকার বাণিজ্যের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বেলতলী বাজার, অটো গ্যারেজ ও আশপাশের বিভিন্ন পরিবহনকেন্দ্রিক কার্যক্রমে খড়ম ও তার সহযোগীদের প্রভাব রয়েছে। টোকেন, স্টিকার ও বিভিন্ন অনুমোদনের নামে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‘বিচার-শালিসের’ নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সন্ধ্যার পর কয়েকটি স্থানে কথিত বিচার-শালিস বসিয়ে বিভিন্ন বিরোধ মীমাংসার নামে অর্থ আদায় করা হয়। কারও সঙ্গে বিরোধ হলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা জিম্মি করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অবৈধ সংযোগ ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ বিলের বড় অঙ্কের বকেয়া রয়েছে। তবে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির যে দাবি করা হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
তদন্তের দাবি স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীদের দাবি, এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল, অবৈধ বাণিজ্য কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগগুলোর বিষয়ে মোজাম্মেল ওরফে ‘খড়ম’ ও তার দুই ভাইয়ের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।