শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও প্রবন্ধকার মো. ফরিদ মিয়া। তিনি বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। তাই শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি উপাদানকে কার্যকরভাবে পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার মান অর্জিত হয়নি। ঘন ঘন শিক্ষানীতি ও পাঠ্যক্রম পরিবর্তন, অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতা শিক্ষার মানোন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়ন সময়ের দাবি।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উপযুক্ত বেতন-ভাতা এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান, তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা বৃদ্ধি, কার্যকর মনিটরিং, অভিভাবক সমাবেশ, হোম ভিজিট এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
লেখকের মতে, শিক্ষকের পাশাপাশি পরিবারও শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অভিভাবকদের নিয়মিত তদারকি, নৈতিক শিক্ষা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগ শিক্ষার্থীদের সাফল্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা থাকলেও এর নেতিবাচক ব্যবহার, পড়াশোনায় অনীহা এবং জ্ঞানচর্চার অভাবে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, পাঠে মনোযোগ, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা এবং শিক্ষক-অভিভাবকের পরামর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মো. ফরিদ মিয়া বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি দক্ষ, মানবিক ও আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
লেখক: মো. ফরিদ মিয়া
মাস্টার্স (ইকোনমিক্স), বিএড, এমএড (ফার্স্ট ক্লাস)
সিনিয়র শিক্ষক, কালী প্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়,
মুন্সীবাজার, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।