পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত, সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি একটি দৈনন্দিন জীবনাচরণ। তাই প্রতি শনিবার নিজ নিজ বাসা, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয় ব্যক্তি ও পরিবার থেকে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে উঠলে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে। সরকারি সংস্থার একার পক্ষে পুরো নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়; এজন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ।
তিনি জানান, শিশুদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্কুলগুলোতে ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস তৈরি এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম নগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। অবশিষ্ট প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য বিভিন্নভাবে খাল, নালা ও উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং কর্ণফুলী ও হালদা নদীর জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানিয়ে নাগরিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে মাত্র ২ থেকে ৩ মিলিলিটার স্বচ্ছ পানিই যথেষ্ট। তাই ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।
তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মেয়র আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফ সিটি’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১১টির কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিক অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল অ্যাপও চালু করা হয়েছে।