মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের উলাইল গ্রামে এক ভুক্তভোগীর বসতভিটা জোরপূর্বক ভাঙচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার সময় চেয়ারম্যান নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা করিম জানান, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ৯টার সময় সাবেক চেয়ারম্যান একলাছ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান (৫৫) ও মফি (৫০) ২০-২৫ জনের একটি দল নিয়ে আচমকা তার বসতভিটায় হামলা চালায়। এ সময় উলাইল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আনিছ এবং সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন সশরীরে উপস্থিত থেকে হামলার নেতৃত্ব দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
করিম আরও জানান, হামলার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং তার স্ত্রী একা ছিলেন। চেয়ারম্যান নিজে তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধর করার জন্য তেড়ে আসেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী করিমের স্ত্রী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চেয়ারম্যান নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করিয়েছেন এবং তাদের গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দিয়ে গেছেন। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে, তিনি নিজে উপস্থিত থেকে এই ধরনের ন্যক্কারজনক উচ্ছেদ ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। এলাকাবাসী এই অন্যায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবারের বসতভিটা ভাঙচুরের চিহ্ন ও ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জানতে উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, আইনগতভাবেই এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।