টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিস্তীর্ণ জনপদ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় লাখো মানুষ দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক জনজীবন ও শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যায় সারাদেশে এখন পর্যন্ত ৫১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৭টি জেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক। বিশেষ করে বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীরা নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না। অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। আবার অনেকের বই, খাতা, শিক্ষাসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সমঅধিকার এবং ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার স্বার্থে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অন্তত এক সপ্তাহের জন্য স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
সংগঠনটির মতে, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বিবেচনায় না এনে পরীক্ষা গ্রহণ করলে তা শিক্ষার মৌলিক ন্যায়বিচার ও সমঅধিকারের পরিপন্থী হবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন কেবল দুর্যোগের কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈষম্যের শিকার না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক এক যৌথ বিবৃতিতে সারাদেশের বন্যাদুর্গত মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সমান অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে চলমান এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা অন্তত এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হোক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে সংশোধিত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো পরীক্ষার্থী প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ আশা প্রকাশ করে, শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা ও শিক্ষার অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার একটি মানবিক, দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। পাশাপাশি সংগঠনটি দেশের এই সংকটময় সময়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সকল ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রতি সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।