নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও ফ্যাক্টরি মালিকদের প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে শিল্পাঞ্চলজুড়ে। জলাবদ্ধতায় একের পর এক মিল-ফ্যাক্টরির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ মে ২০২৬ বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টায়। অভিযোগ রয়েছে, একদল চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে ফ্যাক্টরির নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময় প্রায় ৭ লক্ষ টাকার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ফ্যাক্টরি মালিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বৃষ্টির পানি ও বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরির ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ নিজেদের অর্থায়নে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিলে একটি প্রভাবশালী চক্র তাতে বাধা দেয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, হামলাকারীরা শুধু ভাংচুরই করেনি, বরং ফ্যাক্টরি মালিক ও শ্রমিকদের মারধর এবং মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় অনেক শ্রমিক কাজে যোগদান নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন।
ফ্যাক্টরি মালিকদের দাবি, শিল্পকারখানা সচল রাখতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা জরুরি। অন্যথায় উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়তে পারেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, তারাবো পৌরসভা ও রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।