১২ মে মঙ্গলবার, বেলা ১২ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল আযহার আগে যানজট নিরসনে ও সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের করণীয় শীর্ষক নাগরিক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এইচ এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ হারুন-অর-রশিদ এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, জিয়া সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, রুর্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) এর চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম, নবোদয় প্রি ক্যাডেট এন্ড হাই স্কুলের অধ্যক্ষমোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, যানজট ও চাঁদাবাজ মুক্ত করতে হলে পুলিশ বিভাগের শৃঙ্খলা আনতে হবে এবং ট্রাফিক পুলিশকে ঢেলে সাজাতে হবে। রাজনীতিবিদদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং পরিবহনে মাফিয়াদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তারা আরো বলেন, দেশের বর্তমান ট্রাফিক ব্যবস্থায় যখন দক্ষ জনবলের চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) এবং টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (টিএসআই) পদমর্যাদার সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বৈষম্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বাহিনীর অন্যান্য পদে পদোন্নতির হার সন্তোষজনক হলেও ট্রাফিকের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি একেবারেই নগণ্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশে ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪ হাজার এএসআই (নিরস্ত্র) শূন্য পদ সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার পদ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে এবং বাকি ২ হাজার পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য সার্কুলার প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সরকারের আমলে আরও ৪ হাজার এসআই সরাসরি নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৪-২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুলিশের বিভিন্ন শাখায় পদোন্নতির হার ছিল চোখে পড়ার মতো। কনস্টেবল বা নায়েক থেকে এএসআই (নিরস্ত্র) এবং নায়েক থেকে এএসআই (সশস্ত্র) পদে প্রায় শতভাগ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাফিক বিভাগে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো।
তথ্যমতে, এটিএসআই পদে ৫৫৯ জন এবং টিএসআই পদে ৬০ জন সদস্য বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। বিপুল সংখ্যক সদস্য উত্তীর্ণ হলেও রহস্যজনকভাবে মাত্র ৩০ জন এটিএসআই এবং ৫ জন টিএসআই-কে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা মোট উত্তীর্ণ পদের তুলনায় অতি সামান্য। দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত থাকায় মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে মানসিক চাপ ও অসন্তোষ বাড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এটিএসআই জানান, “সব বিভাগে শতভাগ পদোন্নতি হলেও আমাদের কেন বঞ্চিত রাখা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। আমরা দিনরাত রাজপথে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দায়িত্ব পালন করি, অথচ প্রাপ্য সম্মান ও পদোন্নতি থেকে আমরা পিছিয়ে আছি।”
বক্তারা আরো বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দক্ষ জনবল যেমন প্রয়োজন, তেমনি কর্মরতদের কাজের স্পৃহা বজায় রাখতে সময়মতো পদোন্নতি নিশ্চিত করা জরুরি। এই বৈষম্য দূর করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে ট্রাফিক বিভাগ দক্ষ নেতৃত্ব সংকটে পড়তে পারে।