তজুমদ্দিন থানাধীন শম্ভুপুর ইউনিয়নে খাবারের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে চুরি ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ০২ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে তজুমদ্দিন থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মূল আসামী বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত ১০:৩০ ঘটিকা হতে ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল ০৫:৩০ ঘটিকার মধ্যে যেকোনো সময় তজুমদ্দিন থানাধীন শম্ভুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শম্ভুপুর (০৬নং ওয়ার্ড) এলাকার জনৈক আল-আমিনের বসতঘরে অজ্ঞাতনামা চোরেরা প্রবেশ করে। আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে খাবারের সাথে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে দেয়। উক্ত খাবার খেয়ে বাড়ির সদস্য ১. মোঃ আল আমিন (২৬), ২. মোসাঃ সাজেদা বেগম (৫০) এবং ৩. মোঃ শামছুল হক খাঁ (৭০) অচেতন ও অসুস্থ হয়ে পড়লে চোরেরা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা ভিকটিমদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল, ভোলায় ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ভোর ০৫:২০ ঘটিকায় ভিকটিম মোঃ শামছুল হক খাঁ (৭০) মৃত্যুবরণ করেন। উক্ত ঘটনায় মোঃ আল-আমিন বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করলে মামলা নং-১৫, তারিখ-৩০/০৪/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- ৩২৮/৪৫৭/৩৮০/৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।
ঘটনার পরপরই ভোলা জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার) মহোদয়ের সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) জনাব সত্যাজিৎ চন্দ্র রায়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তজুমদ্দিন থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার প্রধান আসামী মোঃ পারভেজ (২৬), পিতা- মোঃ মাসুদ, সাং- চর কালাচান, ধলীগৌরনগর ইউপি, লালমোহনকে অদ্য ইং-০১-০৫-২০২৬ তারিখ রাত্র অনুমান ০১:৪০ ঘটিকার সময় লালমোহন থানাধীন ধলেীগৌরনগর সাকিনের ০৯নং ওয়ার্ডস্থ জনৈক পেয়ার আলীর দোকানের সামনে রাস্তার উপর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ পারভেজ (২৬) এর তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অত্র ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক আসামী জসিম (৪৬), পিতা-মৃত মফিজুল ইসলাম, সাং-চর কোড়ালমারা, ০৯নং ওয়ার্ড, শম্ভুপুর ইউপি, থানা-তজুমদ্দিন, জেলা-ভোলাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ০১নং আসামী মোঃ পারভেজ (২৬) বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক এই হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছে। আসামীর নিকট হতে ভিকটিমদের চুরি যাওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তজুমদ্দিন থানা পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপ ও সফল অভিযানের ফলে এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভোলা জেলা পুলিশ অপরাধ দমন এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা তৎপর ও বদ্ধপরিকর।