চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, দালালচক্র দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে স্বাস্থ্যসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। রোগীরা এখন দ্রুত সেবা পাচ্ছেন, কমেছে হয়রানি—এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের দায়িত্ব গ্রহণের পর জরুরি বিভাগে সেবার মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিত থাকায় ইমারজেন্সিতে আগত রোগীরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাচ্ছেন।
হাসপাতাল এলাকায় দীর্ঘদিন সক্রিয় দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দালালদের কোনোভাবেই হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ডা. জয়নাল আবেদীন বলেন, “রোগীদের হয়রানি বন্ধ এবং সেবার মান উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দালালমুক্ত হাসপাতাল গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
অবকাঠামো ও সেবায় বহুমুখী উন্নয়ন হাসপাতালের প্রবেশপথে আরসিসি ঢালাই রাস্তা নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদারসহ রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নেওয়া হয়েছে কার্যকর উদ্যোগ।
অন্তর্বিভাগে নিয়মিত সকাল-বিকাল দুই বেলা রাউন্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য খেলার মাঠ নির্মাণ করা হয়েছে। র্যাংকিংয়ে বড় অগ্রগতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মূল্যায়নে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে সারা দেশে ১৩তম এবং কক্সবাজার জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, বর্তমান কর্মকর্তার যোগদানের আগে হাসপাতালটির অবস্থান ছিল ৩৫৩তম।
সেবার পরিধি বেড়েছে ২০২৫ সালে হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৮৫টি ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে এবং জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৮৪ হাজার ৫০০ রোগী। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতে নরমাল ডেলিভারির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমাতে সচেতনতা কার্যক্রম চলছে।
মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং টিসিভি (TCV) ক্যাম্পেইন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে গতি চকরিয়ায় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার। এ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া “জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬” উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চিকিৎসক সংকট, ওষুধ সরবরাহ, আউটডোরে রোগীর চাপ ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্থানীয় রোগী ও স্বজনরা জানান, আগে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পেতে ভোগান্তি ছিল বেশি। বর্তমানে চিকিৎসক উপস্থিত থাকায় দ্রুত সেবা পাওয়া যাচ্ছে, যা তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।