১৯ এপ্রিল, কিশোরগঞ্জ জেলায় ২০২৬ সালের হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। ২০২৮ সালের মধ্যে দেশ থেকে হাম-রুবেলা নির্মূলের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের ক্যাম্পেইনে ৯ মাস (১৮০ দিন+) থেকে ৫ বছরের কম বয়সী (৫৯ মাস ২৯ দিন) সকল শিশুকে এক ডোজ (০.৫ মিলি) এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা প্রদান করা হবে। সময়সীমা: ক্যাম্পেইনটি মোট ১১ কার্যদিবস পর্যন্ত চলবে। সময়: প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হবে (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত)। টিকাদান কেন্দ্র: নিয়মিত ইপিআই কেন্দ্র, স্থায়ী কেন্দ্র এবং অতিরিক্ত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাম-রুবেলা টিকা অত্যন্ত নিরাপদ। টিকা নদেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা টিকার স্থানে লালচে ভাব হতে পারে, যা দ্রুতই সেরে যায়। তবে কোনো শিশু যদি বর্তমানে জ্বরে আক্রান্ত থাকে বা ইতিপূর্বে টিকা গ্রহণে অ্যালার্জির ইতিহাস থাকে, তবে তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন বা ওই মুহূর্তে টিকা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গত ২৮ দিনের মধ্যে এই টিকা নিয়ে থাকলে পুনরায় নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সংবাদ সম্মেলনে টিকাদান নিয়ে যেকোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচার রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তা কামনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং যেকোনো বিরূপ পরিস্থিতি (AEFI) মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিৎ শর্মা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো: দিদারুল ইসলাম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি (এসআইএমও) ডা. মো: আজিজুল হক তানজিল। এছাড়াও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসারবৃন্দ ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।