বাগেরহাটে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অন্তত ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি অফিসের ভেতরে আলাদা কক্ষে রান্না ও বসবাসের ব্যবস্থাও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগেরহাট শহরের ভিআইপি মোড়ে অবস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে নানা অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নীলিমা সরকারকে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতন দেখানো হলেও বাস্তবে তাকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২ হাজার টাকা। বাকি অর্থ ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া প্রায় এক দশক আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘মাসুদ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পুরোনো ভাউচার ব্যবহার করে ৪ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইভাবে অফিসের জন্য টেবিলের গ্লাস না কিনেই ৩ হাজার টাকার বিল দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গাড়ির টায়ার পরিবর্তনের নামেও অনিয়ম করা হয়েছে। এক বছরে ৯ হাজার ৪০০ টাকার বিল দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো টায়ার পরিবর্তন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সাইদুর রহমান জানান, তিনি নিজে কোনো বিল-ভাউচার সংগ্রহ করেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেভাবে দেন, তিনি সেভাবেই তা প্রস্তুত করে জমা দেন।
অফিসের গাড়িচালক আরিফুর রহমান বলেন, তিনি যোগদানের পর কেবল একটি গাড়ির টায়ার পরিবর্তন করা হয়েছে। অন্য কোনো টায়ার পরিবর্তনের ঘটনা তার জানা নেই।পরিচ্ছন্নতাকর্মী নীলিমা সরকার বলেন, “আমি মাসে দুই হাজার টাকা পাই। খাতা-কলমে পাঁচ হাজার টাকা দেখানো হলেও এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমাকে মৌখিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”সরেজমিনে দেখা গেছে, অফিসের একটি কক্ষ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করছেন উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান। সেখানে রান্না, খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আসাদুর রহমান বলেন, “অফিসে তাৎক্ষণিক বরাদ্দ না থাকায় কিছু ক্ষেত্রে আগে টাকা উত্তোলন করে পরে সমন্বয় করা হয়। বিভিন্ন অভিযানে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আপ্যায়নের জন্য কিছু ‘হিডেন কস্ট’ থাকে, যা অফিসিয়ালি দেখানো যায় না।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা। বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, তারা কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেন না এবং সব খরচ সরকার বহন করে।
অন্যদিকে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, কোনো সরকারি অভিযানে অংশগ্রহণের জন্য পুলিশের অর্থ গ্রহণের কোনো বিধান নেই।এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি সরকারি অর্থের অপব্যবহারের একটি গুরুতর দৃষ্টান্ত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।