কক্সবাজারের উখিয়ায় গভীর রাতে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ভাদিতলা এলাকায় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দফায় দফায় গুলিবর্ষণ, মারধর এবং বাবা- ছেলেকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে পালংখালী ৮নং ওয়ার্ডের ভাদিতলা এলাকায় আব্দুর রশিদ সওদাগর ও মিজানুর রশিদের বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়। প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল অতর্কিতভাবে বাড়িতে হানা দেয়। হামলাকারীরা ২০ থেকে ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
ভুক্তভোগী আব্দুর রশিদ সওদাগর জানান, সন্ত্রাসীরা তার মেজ ছেলে মিজানুর রশিদকে দেখার নাম করে বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপরই অস্ত্রের মুখে তাকে এবং তার কলেজ পড়ুয়া ছোট ছেলে হুমায়ুন রশিদকে জিম্মি করে অপহরণের চেষ্টা চালায়। বাড়িতে থাকা নারী ও শিশুদের ওপরও বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় এলাকাবাসী জড়ো হলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অপহরণের চেষ্টায় বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল মজিদ (২৮) নামে একজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরো জানা গেছে, পালংখালীর চিহ্নিত মাদক কারবারি ছৈয়দুল বশর (প্রকাশ ‘ছি’ ছি’) এবং নুরুল বশরের নেতৃত্বে এই সন্ত্রাসী হামলা ও অপহরণের মিশন চালানো হয়। এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
আব্দুর রশিদ সওদাগর (ভুক্তভোগী) ঘটনার পর থেকে ভাদিতলা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকায় পুনরায় হামলার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
”সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমরা বারবার ৯৯৯ এবং প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি, কিন্তু তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাইনি। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।