পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ শুধু মুক্ত আকাশে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরেও। বরাবরের মতো এবারও অত্যন্ত উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে বন্দী ও তাদের স্বজনদের নিয়ে ঈদ উদযাপন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ
গত ২১ মার্চ ২০২৬ রোজ শনিবার সকাল ৯ ঘটিকায় কারাগারের ভেতরে বন্দীদের জন্য ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে একে অপরের সাথে কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বন্দীরা। পুরো কারা এলাকা রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়, যা বন্দীদের মনে উৎসবের দোলা দেয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ ভোজ
ঈদের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দিনভর আয়োজন করা হয় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গান-বাজনার। বন্দীদের নিজেদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত এই অনুষ্ঠানগুলো এক মুহূর্তের জন্য হলেও তাদের কারাজীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে মনে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে।
পবিত্র ঈদ উৎসব উপলক্ষে বন্দী এবং দায়িত্বরত স্টাফদের মাঝে উন্নত মানের বিশেষ খাবার (স্পেশাল ডায়েট) পরিবেশন করা হয় বলে জানাযায়। কারাগারের ভেতর এমন আয়োজনে বন্দীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
দর্শনার্থীদের জন্য ‘মিষ্টি’ চমক
কারাগারের প্রধান ফটকে বন্দীদের সাথে দেখা করতে আসা স্বজনদের জন্যও ছিল বিশেষ আপ্যায়ন। আগত দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে পরিবেশন করা হয় ওয়েলকাম ড্রিংকস (শরবত) এবং মিষ্টি। এছাড়াও কারা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
কারা কর্তৃপক্ষের এমন মানবিক আচরণে অভিভূত দর্শনার্থীরা। স্বজনদের সাথে দেখা করতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, “ভেতরে আসার সাথে সাথেই শরবত ও মিষ্টি দিয়ে আমাদের যেভাবে আপ্যায়ন করা হয়েছে, তাতে আমরা সত্যিই আনন্দিত। এমন পরিবেশ আগে কখনো দেখিনি।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের জেলার জনাব মোঃ আবু সালাম তালুকদার জানান:
“আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি বন্দী এবং তাদের পরিবারের মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। বন্দীদের মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে আমাদের এই মানবিক ও উৎসবমুখর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
শহরের বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, কারাগারের ভেতরে এ ধরনের বিনোদনমূলক ও মানবিক উদ্যোগ বন্দীদের সংশোধনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, এবং কারা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।