কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, সনদ বাণিজ্য ও দালালচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারী ও বাইরের দালালদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা সাধারণ রোগীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বশির, রফিক ও আমজাদ নামের কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন চিকিৎসা সংক্রান্ত সনদ সংগ্রহ করে দালালি ও অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সনদ দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেন করা হয়।
এদিকে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উত্তর পাড়ার বাসিন্দা নজিমুর রহমানের বিরুদ্ধেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও হাসপাতালের হাজিরা খাতায় তার নাম নেই ১৩ মাস চাকরি জীবনে, অথচ নিয়মিতভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগের অডিও রেকর্ড দৈনিক ঘোষণা’র ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম সুমনের হাতে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় তিনি হাসপাতালে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন এবং অন্যদের দূরে রাখা হচ্ছে। এছাড়া অফিস সহায়ক পদে থেকেও তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে বিভিন্ন টিকিট সংক্রান্ত কাজ ও অন্যান্য কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে তার খালাতো ভাই রিমন, যিনি নৈশ প্রহরী পদে কর্মরত, তার বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নৈশ প্রহরীর দায়িত্বে থাকলেও তিনি জরুরি বিভাগ, আউটডোর ও বিভিন্ন চেম্বারে রোগী নিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পাশাপাশি কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক ভিত্তিতে চিঠির মাধ্যমে হাদিয়া বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করছে, এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে হাসপাতালের সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ রোগীরা দালালচক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জয়নাল আবেদীন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ এসেছে এবং সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদুল হক বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি আরও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করেছেন, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলমান এসব অনিয়ম, দালালচক্র ও সনদ বাণিজ্যের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।