পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের সোনাহার মোল্লাপাড়া এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে রিংকি নামে ২৩ বছর বয়সী ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। একটি মুঠোফোনের সম্পর্কের সূত্র ধরে শুরু হওয়া সংসারের এমন বিষাদময় সমাপ্তি মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা।
ঘটনার গভীরে গিয়ে জানা যায়, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী এলাকার মেয়ে রিংকির সাথে দেবীগঞ্জের সোনাহার মোল্লাপাড়া এলাকার আমছের আলীর ছেলে আলিম ইসলামের পরিচয় হয়েছিল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। পেশায় প্রবাসী আলিমের সাথে রিংকির সেই পরিচয় একসময় প্রণয়ে রূপ নেয় এবং তারা অনলাইনে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর দীর্ঘ আট মাস ধরে রিংকি তার শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছিলেন। তবে নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস হলো, আলিম গত দুই বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করায় বিয়ের পরও এই দম্পতির সরাসরি একবারের জন্যও দেখা হয়নি। তাদের দাম্পত্য জীবনের গল্পটা ছিল শুধুই মুঠোফোনের পর্দায় বন্দি।
মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় রিংকির মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। মৃত্যুর আগের রাতেও প্রবাসী স্বামী আলিমের সাথে মোবাইলে দীর্ঘ সময় কথা বলেন রিংকি। সেই কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আলিম স্থানীয় এক প্রতিবেশীকে ফোনে খবর দেন। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না; পরদিন সকালে রিংকির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
স্বজন ও প্রতিবেশীদের দাবি, শ্বশুরবাড়িতে রিংকি বেশ আদর-যত্নেই ছিলেন। শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর, কোনো ধরনের ঝগড়া বা বিবাদের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইদানীং রিংকি তার প্রবাসী স্বামীকে নিয়ে কিছুটা সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন এবং প্রায়ই তাকে সন্দেহ করতেন। এই মানসিক দ্বন্দ্ব থেকেই কি তিনি এমন চরম পথ বেছে নিলেন, নাকি এর আড়ালে অন্য কোনো কারণ আছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
দেবীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। আইনগত সকল প্রক্রিয়া মেনেই এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। যে প্রবাস জীবনের সুখের আশায় রিংকি সুদূর নোয়াখালী থেকে দেবীগঞ্জে ঘর বেঁধেছিলেন, সেই স্বপ্নের ঘরে তার নিথর দেহের পড়ে থাকা এখন গ্রামবাসীর মুখে মুখে ফিরছে।