রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় পথচারীদের চলাচলের রাস্তা দখল করে বসেছে অসংখ্য ভাসমান দোকান। ফুটপাত তো বটেই, সড়কের একাংশও এখন পসরা সাজানোর জায়গা। ফলে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে পড়ছেন সব শ্রেণীর পেশাজীবী মানুষ ও গণপরিবহন চালকরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ, এমনকি জরুরি সেবা বহনকারী যানবাহনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে। অথচ প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।
কার ছত্রছায়ায় এই দখল? অভিযোগ উঠেছে, কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মৌন সমর্থন ছাড়া এভাবে দীর্ঘদিন ফুটপাত ও সড়ক দখল সম্ভব নয়। এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ আদায়ের মাধ্যমে এসব ভাসমান দোকান টিকে আছে। প্রশ্ন উঠেছে—এই অর্থ কার পকেটে যাচ্ছে?
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন চাঁদা না দিলে দোকান বসাতে দেওয়া হয় না। মাঝে মাঝে উচ্ছেদের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে কিছুই হয় না।
ট্রাফিক পুলিশ ও থানা পুলিশের ভূমিকা কোথায়? স্থানীয়রা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ট্রাফিক পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা প্রতিদিনই এলাকায় উপস্থিত থাকেন। তাহলে তাদের চোখের সামনেই কীভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল অব্যাহত থাকে?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো জনস্বার্থ রক্ষা ও সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। কিন্তু ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। নিয়মিত অভিযান ও স্থায়ী সমাধানের বদলে মাঝে মধ্যে লোকদেখানো তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
জনদুর্ভোগ চরমে অফিস টাইমে দীর্ঘ যানজট অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা পথচারীদের সড়কে নেমে চলাচলের ঝুঁকি নারী ও শিশুর নিরাপত্তা হুমকির মুখে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের এই চিত্র শুধু একটি এলাকার নয়—রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল ও অব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন সত্যিই জনস্বার্থে কঠোর ভূমিকা নেয়, নাকি প্রভাবশালীদের ছায়াতেই চলবে এই দখলদারিত্ব। এলাকাবাসী আরো বলেন, ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা – ৫ এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ কামাল হোসেন এমপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন কিন্তু তারও কোন ভূমিকা এখানে দেখছি না। তবে কে করবে এর সমাধান, কে নিবে এর দায়িত্ব এবং কে করবে ভূমিকা পালন, প্রশ্ন সকল মহলে। এ বিষয়েঢাকা -৫এর বর্তমান এমপি মোঃ কামাল হোসেনের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে দায়িত্ব এড়িয়ে থানা পুলিশকে অবগত করার জন্য নির্দেশ দেন।