ফরিদপুরে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও অনলাইন ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলোতে বারবার উঠে এসেছে সাজ্জাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির নাম। সবগুলো অভিযোগই দায়ের করা হয়েছে কোতয়ালী থানায়।
চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে মানহানির অভিযোগ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ব্যবসায়ী মোঃ আলম শেখ থানায় অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে তাকে এবং তার বড় ভাইকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত এর আগেও বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একইভাবে চাঁদা আদায় করতেন।
নারী কর্মকর্তাকে অনৈতিক প্রস্তাব ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগএরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মেডিসাস ইন ফুড সাপ্লিমেন্ট কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার কাবেরী ইসলাম থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, কোম্পানির সাবেক ডিলার আনিসুর রহমান মনিরের সঙ্গে যোগসাজশে সাজ্জাদ হোসেন তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং গোপনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।এমনকি কোম্পানির কর্মচারী ও কয়েকজন চিকিৎসককেও ফোন করে ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে হয়রানির অভিযোগ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পার্থ স্বারথী সরকার নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার মামার ছবি ব্যবহার করে ‘Sajjad Hossain’ নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। বারবার নিষেধ করার পরও অভিযুক্ত অনলাইন হয়রানি বন্ধ না করে উল্টো হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।চিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি ও অশ্লীল কনটেন্ট ছড়ানোর হুমকি।সবশেষে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডা. শুভ্র সরকার থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলেন, ওয়ানডারম্যান্ট ওষুধ কোম্পানির পণ্য লেখাতে রাজি না হওয়ায় তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে গোপনে ধারণ করা ছবি দিয়ে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে আনিসুর রহমান মনির ও সাজ্জাদ হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ কোতয়ালী থানা সূত্র জানায়, প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত আইডি, কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগগুলোর মধ্যে মিল পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একাধিক অভিযোগে একই ব্যক্তির নাম উঠে আসায় ফরিদপুরে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও অনলাইন অপরাধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।