বরিশাল নগরীতে এক চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে গাছ লাগানোর কাজ দেওয়ার কথা বলে কৌশলে ডেকে নিয়ে ঔমরিয়ম নার্সারির মালিক মিলন শেখকে (৪০) অপহরণ করে একদল দুর্বৃত্ত। এরপর একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে লোহার রড ও পাইপ দিয়ে নৃশংস নির্যাতন চালিয়ে তার হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দী করে রাখা হয়। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল ১১টার দিকে মিলন শেখ নগরীর বান্দ রোড এলাকায় তার নিজস্ব নার্সারিতে অবস্থান করছিলেন। এসময় তার পরিচিত এবং ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী তাপস তাকে ফোন করে জানান যে, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কিছু গাছ লাগানো হবে। এই কাজের কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্যবসায়িক সূত্র ধরে আগে থেকেই তাপসের সাথে মিলনের পরিচয় ও কিছু মনমালিন্য ছিল বলে জানা গেছে।
স্বজনদের দাবি, মিলনকে রহমতপুর পল্লী বিদ্যুতের বিপরীতে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গেছে, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই মূলত ওই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিল তাপস ও তার সহযোগীরা। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা আরও দুইজনসহ মোট তিনজন মিলে মিলনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লোহার রড ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত করা হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তার হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দী করে ওই বাসার টয়লেটের ভেতর আটকে রাখা হয়। এরপর তার পরিবারের কাছে প্রথমে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়, যা পরবর্তীতে ২ লক্ষ টাকায় নেমে আসে।
ঘটনার মোড় ঘোরে এক শিশুর কল্যাণে। ওই বাসার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ছোট বাচ্চা মিলনের গোঙানি ও আর্তনাদ শুনতে পায়। শিশুটি তার মাকে খবর দিলে স্থানীয়দের সহায়তায় মিলনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এদিকে ছিনতাইকারীরা মিলনের ব্যবহৃত ডিসকভার ১৩৫ সিসি’ মোটরসাইকেল, মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে স্থানিয় ও স্বজনরা ধাওয়া দিয়ে মোটরসাইকেলসহ সুমন সমদ্দার নামে একজনকে আটক করে বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানা পুলিশে সোপর্দ করে। বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সুমন সমদ্দার আগৈলঝাড়া উপজেলার শুশিল সমাদ্দারের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মিলন শেখ বর্তমানে কথা বলার অবস্থায় নেই এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই ঘটনায় গতকাল কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে ছিলো। ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন-উল ইসলাম জানান, আটককৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।