ঢাকা ২০২৪ সালের ‘মনসুন রেভল্যুশন’ বা গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের মানুষ আশা করেছিল বুলেটের বদলে ব্যালটই হবে ক্ষমতার পরিবর্তনের একমাত্র ভাষা।
কিন্তু নির্বাচনের আগে ও পরে দেশজুড়ে যে সহিংসতার চিত্র ফুটে উঠেছে, তা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সহিংসতার পরিসংখ্যান ও করুণ চিত্র দীর্ঘদিন পর ভোটাররা সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেও রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী:নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ময়মনসিংহ, মুন্সিগঞ্জ ও ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানি ও অসংখ্য মানুষ আহতের খবর পাওয়া গেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের প্রায় ১ হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন হামলায় আহত হয়েছেন।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত ৪৭ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন।
কেন এই অস্থিরতা? নিবন্ধে ড. খান শরীফুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের এই সহিংসতা কেবল আদর্শগত দ্বন্দ নয়; বরং এর গভীরে রয়েছে স্থানীয় ক্ষমতা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি। বিজয়ী পক্ষ যেমন আধিপত্য বজায় রাখতে চায়, পরাজিত পক্ষ তেমনি প্রতিশোধের নেশায় মেতে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ত ভূমিকাও অনেক ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি সহিংসতা কেবল তাৎক্ষণিক ক্ষতি নয়, বরং গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। এর নেতিবাচক প্রভাবগুলো হলো:১. ভোটারদের অনীহা: ভয়ের কারণে ভোটাররা কেন্দ্রবিমুখ হয়ে পড়লে ভোটাধিকার অর্থহীন হয়ে যায়।
২. প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব: বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ৩. বিরাজনীতিকরণ: অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থানের পথ প্রশস্ত হয়।
নিবন্ধে একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে: সহাবস্থানের সংস্কৃতি: জয়-পরাজয় মেনে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণু হতে হবে। জিরো টলারেন্স নীতি: দলীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে দলগুলোকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
প্রশাসনিক সংস্কার: পুলিশ ও প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। মেধাভিত্তিক রাজনীতি: পেশিশক্তির বদলে মেধা ও সামাজিক অবদানের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। মূল শিক্ষা: ২০২৬ সালের নির্বাচন আমাদের শিখিয়েছে যে—শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণই গণতন্ত্রের শেষ কথা নয়; ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করাই প্রকৃত পরীক্ষা