বগুড়া পৌরসভার উপশহর ১৭নং রোডে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি ৫ তলা আবাসিক ভবন। টিএমএসএস-এর চিকিৎসক ডা. মাহফুজুর ইসলামের নির্মাণাধীন ভবনের জন্য পুকুরসম গভীর গর্ত করে মাটি কাটায় পাশের ভবনটি ধসে পড়ার উপক্রম হলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, স্বার্থের বিনিময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এই ভয়াবহ অনিয়ম দেখেও রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবি, ডা. মাহফুজুর ইসলামের ভবন নির্মাণের জন্য কোনো প্রকার শক্তিশালী ‘শোর পাইলিং’ ছাড়াই গভীর খনন কাজ চালানো হচ্ছে। এতে পাশের ৫ তলা ভবনটির ভিত্তি (Foundation) আলগা হয়ে পড়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া জনচলাচলের সাধারণ রাস্তাটিও বালু দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মর্মান্তিক বিষয় হলো, ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনগত সহায়তা পেতে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী হাসান চরম অসহযোগিতা করেন। তিনি অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং মন্তব্য করেন— “পুলিশে অভিযোগ দিয়ে লাভ হবে না, আপনি ইউএনও’র সাথে যোগাযোগ করেন।”
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মুঠোফোনে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো উপহাস করে বলেন— “মাটি না কাটলে বাড়ি করবে কীভাবে?” থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিদ্রূপাত্মক আচরণে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন বিচারহীনতার চরম শঙ্কায় ভুগছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বড় ধরনের প্রাণহানি বা ভবন ধসের ট্রাজেডি ঘটার পর কি তবে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে? টিএমএসএস-এর প্রভাব নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য স্বার্থের কারণে প্রশাসন জননিরাপত্তাকে এভাবে তুচ্ছজ্ঞান করছে? অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন এই অনিয়মতান্ত্রিক নির্মাণ কাজ বন্ধ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করেন—এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।