কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিবছরের ন্যায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান–২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা, শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্যবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শনিবার ও রোববার (০৭–০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম।
শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব দিলারা আক্তার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের সুস্থ মানসিকতা, শারীরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনাব মোঃ আব্দুস সালাম, একাডেমিক সুপারভাইজার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম। তিনি বলেন, নিয়মিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়ক এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়নে তা কার্যকর ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ আবেদ আলী খন্দকার, প্রধান শিক্ষক, ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। সভাপতির বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আইয়ুব আলী, প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান ও পরিমল চন্দ্র, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ ইকরামুল হক, মোঃ ওবায়দুল হক, মোঃ মাহবুবুল কাদের, আক্তারা বেগম, মোঃ মাহবুবুল হক সাউদসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা প্রদান করা হয়। পরে শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে দিনব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা বালতিতে বল নিক্ষেপ, মশাল দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্পসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে তাদের মেধা ও শারীরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করে। আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পুরো আয়োজনটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।