বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেছেন । তিনি বলেন এই নির্বাচনের পরদিন থেকেই দেশবাসী একটি নতুন বাংলাদেশের যাত্রা দেখবে।
গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে একই দিনে সকালে তিনি মহেশখালী উপজেলায় পৃথক একটি জনসভায় অংশ নেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বংশানুক্রমিক রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে না। এ দেশে কেউ যদি এমপি, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীও হন, অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই জামায়াতের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় ভরপুর একটি জেলা। সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব পেলে এই অঞ্চল দেশের অন্যতম উন্নয়ন হাবে পরিণত হতে পারে। নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা নিজেরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব এবং জনগণকেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে আহ্বান জানাব। সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে কক্সবাজার হবে আলোকিত।
তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন। এই নির্বাচন জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নারী ও যুব সমাজের কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদ থাকবে, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। আমরা প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করি—ইনশাআল্লাহ কোনো ওয়াদা ভঙ্গ হবে না।
তিনি যুব সমাজকে প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই দেশ তোমাদের নেতৃত্বেই সামনে এগিয়ে যাবে। দেশ গড়ার দায়িত্ব তোমাদেরই নিতে হবে। এর আগে মহেশখালীতে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর একক বিজয়ের চেয়ে আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। জনগণের কল্যাণই আমাদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য।
সকাল ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কক্সবাজারের জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা জামায়াতের সভাপতি অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা।