বগুড়ায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভা শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গণভোটকে হ্যাঁ বলুন। কোনো ভোটকে নয়, গণভোটকে হ্যাঁ বলুন। গণভোটকে হ্যাঁ বলা মানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ ও দখলবাজিকে না বলা। আর মানবিক বাংলাদেশকে হ্যাঁ বলা।”
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, “আপনারা সবাই হ্যাঁ ভোট দেবেন তো—ইনশাআল্লাহ?”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে দেশ গড়ার লক্ষ্যে। এই ঐক্যের মূল ভিত্তি তিনটি শর্ত—নিজে দুর্নীতি না করা, অন্যের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, কেউ যেন বিচারের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারে। বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সবার।”
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫৪ বছরে দেশে যে ‘পচা রাজনীতি’ চলেছে, তা থেকেই ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, লুটপাট, দুঃশাসন ও ‘আয়নাঘর’-এর জন্ম হয়েছে। এর বিপরীতে যে সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেটিই গণভোট।
তিনি বলেন, “এই গণভোটে হ্যাঁ দিয়ে সংস্কারের সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে।”
জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “যারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন এবং এই তিন শর্ত মানবেন, তাদের নিয়েই আমরা দেশ পরিচালনা করব। আমরা ঐক্যের বাংলাদেশ চাই।”
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়েছে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, যা একসময় আন্তর্জাতিক মানের ছিল। তিনি বলেন, “দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আমরা সেখানে আন্তর্জাতিক মানের খেলার ব্যবস্থা করব। বগুড়া উত্তরবঙ্গের রাজধানী—এ শহরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে এবং বগুড়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন জনগণের অর্থ দিয়েই হবে, তবে সেই অর্থ বিদেশে পাচার নয়, দেশে ফিরিয়ে এনে কাজে লাগানো হবে। ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, “জুলাই আন্দোলনের পর কোথাও জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজি বা মামলা বাণিজ্যে জড়ায়নি। নির্যাতনের শিকার হয়েও তারা এসব করেনি—কারণ তারা দেশকে ভালোবাসে।” বক্তব্য শেষে আমিরে জামায়াত বগুড়ার সব সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা কলিম হালিম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাগপা’র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন বগুড়া-১ থেকে বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং জামায়াত, শিবির ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতারা।