1. masudkhan89@gmail.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@yahoo.com : Masud Khan : Masud Khan
ব্রেকিং নিউজ :
৬ মাসের জন্য স্থগিত এপিপি হযরত আলী হিরন খুলনার ডুমুরিয়ায় রাস্তায় রান্না, ঘরের মাচায় ঘুম ঢাকায় নিখোঁজ কলেজছাত্রের লাশ ডিমলায় উদ্ধার,জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের নাম আত্রাই উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধের মৃত্যু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মানবিক হাত: চুরি হওয়া মাইকের বদলে নতুন সেট পেল ধুরাইল মল্লিকবাড়ি জামে মসজিদ হালুয়াঘাটে সবজির বাজারে আগুন: আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য হারিয়ে বিপাকে সাধারণ মানুষ ফরিদপুরে এসআরবি’র অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ১ ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়া উপজেলায় নামজারি বন্ধে চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সুনামগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৮ মামলায় জরিমানা, ১৪ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- এডভোকেট মাহবুব উল আলম

পাঁচ বছরে বরিশাল বিভাগে ২৯৩ নৌ দুর্ঘটনায় ৩৬৬ জনের প্রাণহানি.

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ০ দেখেছেন

বরিশাল বিভাগে গত পাঁচ বছরে ২৯৩ নৌদূর্ঘটনায় ২৯৩ জনের প্রানহানি হয়েছে। নদীবেষ্টিত বরিশাল বিভাগের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে নৌপথ।
নদীবেষ্টিত বরিশাল বিভাগের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে নৌপথ। এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যমই নদীপথ। তবে সেই নৌপথই হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। নদ-নদীতে ডুবোচর, নাব্য সংকটে বিভাগের অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে অন্তত ১৫টি অভ্যন্তরীণ রুট বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া সেকেলে প্রযুক্তির লঞ্চ, অদক্ষ চালক, বাল্কহেড চলাচলের কারণে নৌপথগুলোয় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত পাঁচ বছরে ঢাকা-বরিশাল ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নৌপথে ২৯৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৩৬৬ জন।

লঞ্চচালকরা জানান, অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটের প্রায় তিন-চতুর্থাংশে এখনো ব্যবহার হচ্ছে সেকেলে প্রযুক্তির লঞ্চ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অদক্ষ চালকের ওপরই নির্ভরশীল মালিক পক্ষ। অধিকাংশ স্থানে সংকেত বাতি, ভাসমান বয়া ও মার্কার না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এসব নৌপথ। এ প্রসঙ্গে নৌ-পুলিশ বরিশাল জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নৌ দুর্ঘটনা রোধে আমরা কাজ করছি। তবে সচেতনতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া এ সংকট কাটানো কঠিন।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে বিভিন্ন নৌপথে ৬৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১১০ জন। ২০২২ সালে ৬৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ৬৮ জন, ২০২৩ সালে ৬২টি দুর্ঘটনায় ৬২ জন, ২০২৪ সালে ৫৫টি দুর্ঘটনায় ৬৩ জন এবং ২০২৫ সালে ৪৭টি দুর্ঘটনায় ৬৩ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ ২৫ ডিসেম্বর রাতে চাঁদপুরের হাইমচরের নীলকমল বাংলাবাজার এলাকায় মেঘনা নদীতে ঢাকাগামী এমভি জাকির সম্রাট-৩ নামে একটি লঞ্চের সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন নিহত হন। আহত হন আরো অন্তত ১৫ জন।

ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটের যাত্রীবাহী এম খান-৭ লঞ্চের মাস্টার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘রাতে নদীপথে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো বাল্কহেড। শীতে নাব্য সংকট ও ঘন কুয়াশায় নদীপথ আরো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। গতিপথ নির্দেশিকা বয়া কার্যত অকার্যকর।’ এম খান-৭ লঞ্চের মালিক মাহফুজ খান জানান, ‘পদ্মা সেতু চালুর পর একে তো যাত্রী সংকট বেড়েছে। বর্ষা ও শীতে ঘন কুয়াশার কারণে নৌপথ আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।’

বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সলেমান বলেন, ‘সার্ভে রিপোর্ট ছাড়া কোনো নৌযান চলাচল করতে পারে না। এ ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

ঝুঁকি মোকাবেলায় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় বলা আছে, দৃষ্টিসীমা ১০০ মিটারের কম হলে কোনো অবস্থাতেই চালানো যাবে না নৌযান। ১০০ মিটারের বেশি হলে সচল রাখতে হবে যাত্রীবাহী লঞ্চে রাডার, ভিএইচএফ, জরুরি লাইট, ফগ লাইট এবং হর্ন ব্যবস্থা। তবে এসব নির্দেশনা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে না মানার প্রবণতা কম লঞ্চ পরিচালনাকারীদের। রাডার, ফগ লাইট বা ইকো সাউন্ডার ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে চলছে নৌযান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল আইন ২০২১-এ সুনির্দিষ্টভাবে রাডার, ফগ লাইট, ইকো সাউন্ডার বা ফগ হর্ন বাধ্যতামূলক করা যেমন হয়নি, তেমনি ব্যবহার না করলে শাস্তির বিধানও রাখা হয়নি এ আইনে। তাই দুর্ঘটনা কমাতে কঠোর হতে পারছে না নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমরা যেসব নির্দেশনা দিই, তা নৌযান কর্তৃপক্ষ ও চালকরা পালন করেন না। নৌযান চলাচলে যেসব যন্ত্রপাতি রাখা জরুরি সেগুলো আবশ্যক করে দেব। আশা করি, আগামী বছরের মধ্যে এসব নিশ্চিত করা যাবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By Rahat IT Ltd.