বরিশাল নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র বেলস পার্ক এলাকায় ঘুরতে এসে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন দুই শিক্ষার্থী। গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীদের ধরতে গেলে চক্রটি পুলিশের সাথে হাতাহাতি ধস্তাধস্তি শুরু করে একপর্যায় বুকে আঘাত এর শিকার হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। তবে এ ঘটনায় সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশ।
আটককৃত ছিনতাইকারীর নাম মো: মিলন (২২)। সে বরিশাল নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডের কেডিসি বান্দ রোড এলাকার মো: শাহীন মাতবর ও লাইলি বেগমের ছেলে। ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী রাকিব এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তুলি আক্তারসহ কয়েকজন বন্ধু মিলে বুধবার সন্ধ্যায় বেলস পার্কে ঘুরতে আসেন। ঘোরাঘুরি শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এসময় ওত পেতে থাকা নগরীর কেডিসি এলাকায় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে।
ছিনতাইকারীরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনটি ফেরত দিলেও নগদ টাকা ও মানিব্যাগ নিয়ে নেয় তারা। যাওয়ার সময় এ বিষয়ে কাউকে কিছু বললে শিক্ষার্থীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চক্রটি।
ছিনতাইকারীরা চলে যাওয়ার পরপরই ভুক্তভোগী রাকিব পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানাধীন স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আমিনুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করে ধাওয়া করে পুলিশ।
আটকের চেষ্টার সময় ছিনতাইকারী চক্রটি উল্টো পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং পুলিশ সদস্যদের সাথে হাতাহাতি করে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চক্রের একজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ, তবে বাকিরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।
আটককৃত ছিনতাইকারীকে কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই বিনোদন এলাকায় এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আল মামুন-উল ইসলাম বলে, অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবং এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশ সর্বদা সজাগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।