গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম রেলস্টেশন ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন আজ চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও টিকিট কালোবাজারির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম রেল হলেও, এই রেল ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দুতেই চলছে যাত্রী হয়রানির এক নীরব কিন্তু ভয়াবহ মহোৎসব।
আজ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা বিলম্বে যাত্রা শুরু করে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা। তবে যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো ব্যতিক্রম নয়—বরং প্রতিদিনই প্রায় সব আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন একইভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ছে।
অবহেলায় ডুবছে সময়ানুবর্তিতা রেলস্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। ট্রেন দেরি হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয় না, নেই কোনো ঘোষণা বা বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ। ফলে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
অনেক যাত্রী জানান, ট্রেন দেরি হওয়ায় তাদের কর্মস্থলে যোগ দিতে দেরি হচ্ছে, কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, চিকিৎসা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে পৌঁছাতে পারছেন না। অথচ এসব বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো জবাবদিহিতা দেখা যাচ্ছে না।
টিকিট কালোবাজারি: প্রকাশ্যেই চলছে কারবার সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো টিকিট কালোবাজারি। নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টারে গেলে টিকিট “শেষ” বলা হয়, কিন্তু স্টেশনের আশপাশে দালালদের কাছ থেকে একই ট্রেনের টিকিট অতিরিক্ত দামে অনায়াসেই পাওয়া যায়। এতে স্পষ্টভাবে ধারণা করা হচ্ছে—এই কালোবাজারি চক্রের সঙ্গে স্টেশনের ভেতরের একটি অসাধু সিন্ডিকেট জড়িত।
একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, ঈদ, পূজা কিংবা ছুটির মৌসুম ছাড়াও সাধারণ দিনগুলোতে একই চিত্র দেখা যায়। অর্থাৎ এটি কোনো মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি সংগঠিত দুর্নীতি।
দুর্নীতির আঁতুড়ঘর হয়ে উঠছে রেলস্টেশন দেশের অন্যান্য রেলস্টেশনেও একই ধরনের অভিযোগ থাকলেও, রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে এর মাত্রা সবচেয়ে বেশি। যাত্রীদের মতে, এটি যেন এক ধরনের “হরি লুটের কারবার”—যেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে—দেশ স্বাধীনতার এত বছর পরও যদি জনগণ ন্যূনতম সেবা না পায়, তাহলে উন্নয়নের সুফল কোথায়? ট্রেনে যাতায়াত যদি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সময়মতো না হয়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
সরকারের শীর্ষ মহলের হস্তক্ষেপ চান যাত্রীরা এ অবস্থায় ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণ মাননীয় যোগাযোগ উপদেষ্টা ও মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা কমলাপুর রেলস্টেশনসহ দেশের সব রেলস্টেশনে—
টিকিট কালোবাজারি বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত স্টেশন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
ট্রেন সময়মতো ছাড়ার বাধ্যবাধকতা, ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থার পূর্ণ বাস্তবায়ন যাত্রীবান্ধব তথ্য ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
যাত্রীদের স্পষ্ট বক্তব্য—এভাবে যদি অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি চলতে থাকে, তাহলে রেল ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে যাবে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই ভোগান্তি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—এই দুর্নীতির শেষ কোথায়?