গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে মাফরোজা আক্তার যোগদানের কিছু দিনের মধ্যেই কৃষি বান্ধব মনোভাবে কৃষিতে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। মাঠে মাঠে ঘুরে কৃষকের আস্তা অর্জন করেছেন তিনি। প্রয়োজনের সময় নিরলস পরিশ্রমি এই মানুষটিকে পাশে পেয়ে খুশি এখানকার কৃষকেরা। নিজ গুণে নিজ কর্মস্থল পাশাপাশি কৃষকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। নিজ প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলেছেন জনবান্ধব ও প্রান্তিক অসহায় কৃষকদের আশ্রয়স্থল হিসেবে।
দাপ্তরিক কাজের বাইরে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সকাল থেকে রাত অবধি ছুটে চলেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা কৃষি সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় নিয়েই ছুটে আসছেন তার অফিসে। তাৎক্ষণিকভাবে পেয়ে যান সমাধান।
এছাড়াও উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা, আইন-শৃঙ্খলা মিটিংসহ সরকারি যাবতীয় অনুষ্ঠানে প্রতিনিয়ত সঠিক সময়ে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। তার উপস্থিতিতে দপ্তরিক কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। কমেছে কৃষি পর্যায়ে জনভোগান্তি এবং বৃদ্ধি পেয়েছে কৃষি সেবার মান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে পিতা মাতার কোল আলোকিত করে ২৮/০১/১৯৮৬ ইং সালে জন্মগ্রহণ করেন এই মহীয়সী নারী। শৈশব ও কৈশোরের গুন্ডি পেরিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার হিসেবে আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর কৃষি অফিসে প্রথম যোগদান মাধ্যমে কর্মজীবন আলোকিত করেন তিনি।
পরবর্তীতে ১০/১১/২০২২ ইংরেজি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কৃষিবিদ মাফরোজা আক্তার যোগদান।
তিনি এই উপজেলার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সকলকে আপন ভেবে কাজ করেছেন এবং প্রতিনিয়তই প্রশংসিত হচ্ছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষি ব্যবস্থাপনায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে সেটা তার মাঠ পর্যায়ে নিরলস পরিশ্রমের কারণেই। প্রান্তিক কৃষকদের মন জয় করা একজন মানবিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ‘মাফরোজা আক্তার।
তিনি সর্বদা সরকারি সেবা সকল কৃষক এবং উদ্যোক্তার দুয়ায়ে পৌঁছে দিতে নিজেকে আত্মবনিয়োগ করেছেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে তিনি একজন নীর অহংকার পরায়ন পরোপকারি মানুষ হিসেবে অল্প সময়ে পেয়েছেন পরিচিতি ।।
মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তারের ব্যাপারে কথা তুলতেই “তিনি অনেক ভালো মানুষ বলে অকপটেই স্বীকার করলেন এখানকার কৃষকেরা।।
এখানকার সাধারণ কৃষকেরা প্রশংসা করে বলেন, সরকারি সেবাকে আমাদের মত কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দিতে ও অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে কৃষি কর্মকর্তা সবসময় নিবেদিত হয়ে কাজ করেন। বিশেষ করে তিনি সকল সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার করেন। গ্রাম থেকে আসা সেবা প্রত্যাশী কৃষকেরা উপজেলায় এসে যাতে সঠিকভাবে সেবা পান, তিনি এ বিষয়টি সবসময় বিশেষ গুরুত্বসহকারে দেখেন। এসব কারণে ইতোমধ্যে সবার কাছে তিনি কৃষকের বন্ধু হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
শুধু তাই নয়, যেকোনো কৃষি বিষয়ক সমস্যায় সবার আগে তিনি পাশে কৃষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করেন।
উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের উদ্যোক্তা ও সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের, তারা জানান, প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প চাষে অধিক ফলন এবং শিক্ষিত বেকার যুবকদের কৃষিকাজে আগ্রহী করতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা। দেয়া হচ্ছে নানা ধরনের আধুনিক প্রশিক্ষণ।
তিনি এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই সকল কৃষকেরা যাতে করে সঠিকভাবে সরকারি সার,বীজ এবং কীটনাশক পায় এজন্য প্রতিনিয়ত করেন মনিটারিং। যোগদানের পর থেকেই পরিবর্তন হয়েছে চিত্র। এখন আর আগের মত কোন অভিযোগ নেই প্রান্তিক কৃষকদের।। বিভিন্ন উন্নয়নমূল কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন মহলে বেশ প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাফরোজ আক্তার বলেন, উপজেলার মানুষ ভালো থাকুক এটাই আমার একমাত্র চাওয়া। কতোটুক সফল হয়েছি জানি না, তবে সঠিক নাগরিক সেবা, এবং সরকারি দায়িত্ব গুলো সাধারণ খেটে খাওয়া প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করছি ।।