চট্টগ্রামস্থ নূরানী তা’লিমুল কুরআন বোর্ডের অধীনে এ বছর আয়োজিত তৃতীয় শ্রেণির নূরানী কেন্দ্রীয় সনদ পরীক্ষায় সারা দেশের ১০ হাজার ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার রাজধানী মোড়ে অবস্থিত রওজাতুল আত্ফাল হিলি নূরানী একাডেমি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণি থেকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর প্রতিষ্ঠানটির ৩২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ অর্জন করে চমকপ্রদ সাফল্য দেখিয়েছে। এতে মাদ্রাসার পাশাপাশি হাকিমপুর উপজেলার শিক্ষাঙ্গনে সুনামের মাত্রা আরও এগিয়ে গেল।
জিপিএ–৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা হলেন,আমিরাতুন্নেসা গালিবাহ, ইব্রাহিম বিন ওয়ালী, আহমদ হোসাইন, আহনাফ আবিদ আরাফ, মো. নাহিদ, ওমর ফারুক, ইফতিয়া আফরিন সানিয়া, তানভীর হোসেন, তাসিন মাহাদী সাদ, সালমান ফার্সী, আয়শা সিদ্দিকা, আবরার হামীম রাবীদ, তাকাবির হোসেন সজীব, আবু তালহা, নাইয়ান আহম্মেদ ইয়ান, রিফাত, মারুফা জান্নাত, তাসিন আহমাদ, আল রিহাদ, হাবিবা আক্তার মিম, আমান হোসাইন, আব্দুর রহমান, মিথিলা জান্নাত ও মোস্তাকিম হোসেন।
এছাড়াও সারাদেশের ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে টপ–২০–তে স্থান করে নিয়েছে এ মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী। আমিরাতুন্নেসা গালিবাহ ১৩তম এবং সালমান ফার্সী ২০তম স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের পালক আরও উজ্জ্বল করেছে।
১৩তম স্থান অর্জনকারী আমিরাতুন্নেসা গালিবাহ’র মা মোছা. উম্মে হানিয়া বেগম বলেন,“আমার মেয়ের এই সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। মাদ্রাসার শিক্ষকদের পরিশ্রম ও দিকনির্দেশনা ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।”
২০তম স্থান অর্জনকারী সালমান ফার্সীর পিতা আব্দুল মালেক জানান,এ সাফল্য শুধু আমার সন্তানের নয়, মাদ্রাসা ও হিলিবাসীর গর্ব। আমার ছেলে অল্প সময়েই ধর্মীয় শিক্ষা ও আচরণে উন্নতি করেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মো. সাব্বির আহমেদ বলেন,৩২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জন জিপিএ–৫ অর্জন করেছে। পাশাপাশি আমাদের দুই শিক্ষার্থী টপ–২০–তে স্থান পেয়েছে। আমরা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে কাজ করছি।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা হাফেজ মো. শহিদুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক হাফেজ মো. সাব্বির আহমেদ, হাকিমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ বছর প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক পরীক্ষায় মোট ৩৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।