মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাঠজুড়ে এখন কেবলই হলুদের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই যেন প্রকৃতির বিছানো হলুদ গালিচা। শীতের সকালের কুয়াশাভেজা শিশির আর মিষ্টি রোদে সরিষার ফুলগুলো হাসছে। সেই হাসিতে যোগ হয়েছে মৌমাছির গুঞ্জন। ফুলে ফুলে মধু সংগ্রহে মৌমাছিদের এই ছোটাছুটি প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে যেমন আনন্দ দিচ্ছে, তেমনি সরিষার বাম্পার ফলনের স্বপ্নে বিভোর এলাকার কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শিবচরে প্রায় এক হাজার একর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা গত দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। কৃষকরা এবার বারী-১৪, ১৭, ১৮, ১৯ এবং বিনা-৯ সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের সরিষা চাষ করেছেন। তবে উচ্চ ফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় বারী-১৪ জাতের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
সরেজমিনে উপজেলার দত্তপাড়া ও নিলখী ইউনিয়নের চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠ সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে। রোপা আমন কাটার পর বোরো আবাদের মাঝামাঝি সময়ে এই সরিষা চাষ করা হয়। কৃষকরা জানান, সরিষার পাতা থেকে চমৎকার জৈব সার তৈরি হয়, যা জমির উর্বরতা বাড়ায়। ফলে পরবর্তী ধান চাষে সার ও কীটনাশক খরচ অনেক কম লাগে।
দত্তপাড়া ইউনিয়নের খারা কান্দি গ্রামের কৃষক শহআলম বলেন, “এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন গতবারের চেয়ে ভালো হবে বলে আশা করছি। বাজারদরও এখন চড়া। তবে সার ও বীজের দাম বাড়ায় শেষ পর্যন্ত লাভের অঙ্ক কতটা থাকবে তা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত।”
মৃধাকান্দি গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ সূর্য মিয়া জানান, সরিষা ক্ষেতে প্রায় দেড় মাস ফুল থাকে। এই সময়ে সরিষা চাষের পাশাপাশি চলে মধু সংগ্রহ। এক মৌসুমে সর্বোচ্চ তিনবার মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মৌ-চাষিরা এসে এখন এই অঞ্চলে মধু সংগ্রহের কাজ করছেন।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, “কৃষি বিভাগ থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এবার অনেক কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার শিবচরে সরিষার রেকর্ড পরিমাণ ফলন হবে।”
এলাকার উৎপাদিত এই সরিষার তেল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।