1. masudkhan89@gmail.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@yahoo.com : Masud Khan : Masud Khan
ব্রেকিং নিউজ :
হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্য: হালুয়াঘাটে এখন আর বাজে না বিয়ের পালকির নতুন সুর চান্দিনায় আদালতের আদেশে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বাদীকে জমি বুঝিয়ে দিল প্রশাসন পূজায় গুজব ও উসকানি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান ময়মনসিংহের এসপি কামরুল হাসান খুলনায় পুর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতাকে গুলি করে হত্যা মানিকগঞ্জের শিবালয়ে তালিমুল কুরআন বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মশালা নৈতিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতা রোধে সামাজিক উদ্যোগ অপরিহার্য: ছাতকের ইউএনও সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন শুনানি ৬ অক্টোবর ‘পুজো পুজো গন্ধ লেগেছে’ মণিরামপুরে সকল দুর্গাপূজা মন্দির সেজে উঠেছে দেবহাটায় পোল্ট্রি খামারে হামলা-লুটের মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ডিএনসিসিতে নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ এর “বদলি”, ১৬ দিনের মাথায় পুনর্বহাল নেপথ্যে কি 

পেটের দায়ে কুয়াশা উপেক্ষা, রাজশাহীর শ্রমজীবীরা রাস্তায়!

  • আপডেট সময় : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ০ দেখেছেন

ভোরের রাজশাহীতে ঘন কুয়াশা যেন সবকিছুকে গিলে খাচ্ছিল। হিমেল বাতাসে ধুয়ে যাওয়া সড়ক, চোখে পড়া নেই এমন কুঁদুলি ধূসর আকাশ, আর আর্দ্র পরিবেশ—সব মিলিয়ে শহর যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই পুরো নগরী ঢেকে যায় কুয়াশার চাদরে। সকাল পেরিয়ে বেলা গড়ালেও সূর্যের দেখা মেলেনি, এবং শহরের রংমাখা সকাল কেবল ধূসর নীরবতায় ঘূর্ণমান।

তবে দুপুরের দিকে সূর্যের আভাস মিলতেই কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে নগরজীবনে। হালকা রোদ গায়ে পড়লে মনে হয়, প্রাকৃতিক এই মুহূর্তই যেন শ্রমজীবী মানুষের একটুখানি প্রশান্তি উপহার দিচ্ছে। তবে ততক্ষণে কনকনে ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নেমে পড়া দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মানুষেরা দিনের বড় অংশ পার করে দিয়েছেন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই—হাত-পা শীতল, চোখে জল, কিন্তু হাল ছাড়েননি একটুও।

কুয়াশা ও শীতের এই অনবরত প্রভাব শহরের রুটিনে স্পষ্ট। যানবাহনের ধীরগতি, মানুষের কম উপস্থিতি, এবং ঘরের উষ্ণতা আর জীবিকার মাঝখানে ফেঁসে থাকা শ্রমিকদের দৃশ্য—সব মিলিয়ে নগরজীবন যেন একটি ধীর, নিঃশব্দ লড়াইয়ে আবদ্ধ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,গতকাল  শুক্রবার রাত ১১টার পর থেকেই রাজশাহীতে কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাত যত গভীর হয়েছে, কুয়াশাও তত ঘন হয়েছে। সঙ্গে বইতে থাকে উত্তরের হিমেল হাওয়া। ভোরের দিকে কুয়াশা এতটাই ঘন ছিল যে কয়েক হাত দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের গতি ছিল ৩ নটিক্যাল মাইল এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আকাশে মেঘ ও কুয়াশার আধিক্যের কারণে দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গেছে। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে।

ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডা বাতাসের প্রভাব পড়েছে নগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। ভোরের দিকে রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীর উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। বিশেষ করে সকাল বেলায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে অনীহা দেখায়।

তবে জীবিকার তাগিদে কনকনে ঠাণ্ডা উপেক্ষা করেই ভোর সকাল থেকে কাজে বের হতে দেখা গেছে দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মানুষদের। শীতের তীব্রতা তাদের থামিয়ে রাখতে পারেনি।

ভোরে নগরীর সাহেববাজার এলাকায় কথা হয় দিনমজুর আব্দুল মালেকের সঙ্গে। কম্বল জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই শ্রমিক বলেন,“শীত খুব বেশি পড়ছে। ভোরে কাজে বের হলে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। তবু বের হতেই হয়। একদিন কাজ না করলে ঘরে চুলা জ্বলে না।”

একই এলাকার রিকশাচালক লিটন আলী জানান, “কুয়াশার কারণে সকালে যাত্রী কম থাকে। ঠাণ্ডায় শরীর কাঁপে, চোখ জ্বালা করে। তারপরও রাস্তায় নামতে হয়, না নামলে আয় নেই।”

শিরোইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভোরে দেখা যায় একদল নির্মাণশ্রমিক দাঁড়িয়ে আছেন কাজের অপেক্ষায়। তাদের একজন জাহিদুল ইসলাম বলেন,“শীত পড়লে কাজ কমে যায়। মানুষ বাইরে বের হয় না, তাই কাজের ডাকও আসে না। আজ সকালেও এখনো কোনো কাজ পাইনি।”

ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সকালবেলা মহাসড়ক ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে যান চলাচল ছিল সতর্কতার সঙ্গে। অনেক চালক হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে। এতে করে যাত্রী পরিবহনে সময় বেশি লাগছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। চিকিৎসকরা বলছেন, এই সময়ে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা খোলা জায়গায় কাজ করেন, তাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন রাজশাহী অঞ্চলে কুয়াশা ও শীতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। রাত ও ভোরে কুয়াশা আরও ঘন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শীত মোকাবিলায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদার করা না হলে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By Rahat IT Ltd.