ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আদর্শ ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষা চলাকালে বহিরাগতকে প্রবেশে বাধা দেওয়ায় রামদা হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে অধ্যক্ষসহ শিক্ষক–কর্মচারীদের ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আল সাদ (৩০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। কলেজের সিসি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে।
সিসিটিভিতে যা দেখা যায়, ফুটেজে দেখা যায়, দুই যুবক একটি মোটরসাইকেলে কলেজে প্রবেশ করে। পেছনের সিটে থাকা আল সাদের হাতে বড় আকৃতির দেশীয় অস্ত্র রামদা। তাদের দেখে শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা আতঙ্কে সরে যান। কিছুক্ষণ কলেজ ভবনে অবস্থান করে তারা চলে যায়। গত বুধবার দুপুরে আলফাডাঙ্গা কামারগ্রামে অবস্থিত আলফাডাঙ্গা আদর্শ ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা কলেজে উপস্থিত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
যুবকের পরিচয়, স্থানীয় সূত্র জানায়, আল সাদ পৌরসভার কুসুমদি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। একসময় ছাত্রলীগের কর্মী থাকলেও বর্তমানে ফরিদপুর–১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক।
তার সঙ্গে থাকা যুবক সাদি (২৫), পৌরসভার শ্রীরামপুর এলাকার গফুর খাঁর ছেলে।
অধ্যক্ষের বক্তব্য, বৃহস্পতিবার কলেজের অধ্যক্ষ এ এম মুজিবুর রহমান মুজিব দৈনিক ইনকিলাবএর প্রতিনিধিকে বলেন — “তার (আল সাদ) স্ত্রীর পরীক্ষা ছিল। সে পরীক্ষার সিট দেখার উদ্দেশ্যে গেটে এসে ভেতরে ঢুকতে চাইলে কর্মচারীরা বাধা দেয়। কিন্তু সে বাধা না মেনে ১৪৪ ধারা অমান্য করে জোর করে কলেজে প্রবেশ করে। আমি তা দেখে দ্রুত সেখানে যাই এবং অনুরোধ করি বের হতে। তখন সে বেপরোয়া ভঙ্গিতে আমাকে ধাক্কা দিয়ে বলে— ‘আপনি আমাকে চিনেন? আপনার খবর আছে। আমি আলফাডাঙ্গার রাজা, বড় নেতা। আপনাদের দেখিয়ে দেব।’”
অধ্যক্ষ জানান, ২০–২৫ মিনিট পর আল সাদ আবার কলেজে ঢোকে—এবার রামদা হাতে নিয়ে, সঙ্গে ছিল আরও একজন।
“তখন পরীক্ষা চলছিল। শিক্ষার্থীরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছিল; বহু কষ্টে প্রাণে বাঁচি। পরীক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতা এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাদের মাধ্যমেই তার কাছ থেকে একটি মুচলেকা নেওয়া হয়। আমাদের কাছে সিসিটিভির পূর্ণ ভিডিও রয়েছে, যা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করব।”
রাজনৈতিক নেতাদের অবস্থান, এ ঘটনায় আল সাদের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির কিছু নেতৃবৃন্দ। তবে এবিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস বলেন “ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।”
পুলিশের বক্তব্য, আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. হাসনাত বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”