গাজীপুরের কোনাবাড়ী নীলনগর এলাকার ৫২৯ নম্বর আমবাগে অবস্থিত পি.এন. কম্পোজিট লিমিটেড বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬–এর ধারা ১৩(১) অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। এ ঘোষণা ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে।
কারখানা বন্ধ ঘোষণা সম্পর্কিত নোটিশে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, রোজ রবিবার শ্রমিকরা কিছু অযৌক্তিক দাবি উত্থাপন করে কারখানায় সংঘবদ্ধ হন এবং উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে অবৈধ ধর্মঘটে লিপ্ত হন। এতে কারখানার অভ্যন্তরে চরম বিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
কর্তৃপক্ষ বারবার পিএ সিস্টেমের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজে যোগদান করার আহ্বান জানালেও শ্রমিকরা কাজে ফেরেননি। ফলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়—যা বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী “বে–আইনি ধর্মঘট” হিসেবে গণ্য।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি ধারা ১৩(১) অনুযায়ী কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন নোটিশের মাধ্যমে পুনরায় চালুর তারিখ জানানো হবে। তবে সিকিউরিটি ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা এই আদেশের আওতামুক্ত থাকবেন।
ঘটনার আরও একটি দিক উঠে এসেছে শ্রমিকদের অভিযোগে অনেক শ্রমিক জানান, কোম্পানির এক ডাইরেক্টর লাঞ্চ টাইমে কাটিং সেকশনের এক শ্রমিকের মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত হয়ে শ্রমিকের ওপর শারীরিকভাবে আচরণ করেন এবং তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ—“লাঞ্চ টাইম পুরোপুরি আমাদের। এই সময়ে মোবাইল ব্যবহার করলে সমস্যা কোথায়?”
“আমরা গরিব বলে কি আমাদের সম্মান নেই? মালিক পক্ষ যদি আমাদের সাথে এমন আচরণ করে তাহলে আমরা কোথায় যাব?”
“আমরা বছরের পর বছর শ্রম দিই, অথচ অবহেলিতই থেকে যাই। আমাদের টাকায় তারা দামি গাড়ি–বাড়ি ব্যবহার করে, কিন্তু আমাদের অধিকার ও সম্মান দেওয়া হয় না।”
এই ঘটনার পর শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত অস্থির হয়ে ওঠে। শ্রমিকরা দাবি করেন যে, যথাযথ শ্রমিক অধিকার, সম্মান এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।
প্রশাসনের কাছে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে কারখানা বন্ধের বিষয়টি অবহিত করার জন্য যাদের কাছে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে—প্রধান পরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানসমূহ জেলা প্রশাসক, গাজীপুর পুলিশ সুপার, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ,উপ-মহাপরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর ,সেনাবাহিনী ক্যাম্প, বিজিএমইএ সভাপতি
বিকেএমইএ সভাপতি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি সেল, কারখানা নোটিশ বোর্ড।