1. masudkhan89@gmail.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@yahoo.com : Masud Khan : Masud Khan
ব্রেকিং নিউজ :
৬ মাসের জন্য স্থগিত এপিপি হযরত আলী হিরন খুলনার ডুমুরিয়ায় রাস্তায় রান্না, ঘরের মাচায় ঘুম ঢাকায় নিখোঁজ কলেজছাত্রের লাশ ডিমলায় উদ্ধার,জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের নাম আত্রাই উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধের মৃত্যু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মানবিক হাত: চুরি হওয়া মাইকের বদলে নতুন সেট পেল ধুরাইল মল্লিকবাড়ি জামে মসজিদ হালুয়াঘাটে সবজির বাজারে আগুন: আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য হারিয়ে বিপাকে সাধারণ মানুষ ফরিদপুরে এসআরবি’র অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ১ ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়া উপজেলায় নামজারি বন্ধে চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সুনামগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৮ মামলায় জরিমানা, ১৪ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- এডভোকেট মাহবুব উল আলম

ঘোড়াশাল ট্র্যাজেডি দিবস : ভুলে যাওয়া ইতিহাসের ক্ষত এখনো তাজা

  • আপডেট সময় : শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ০ দেখেছেন

৬ ডিসেম্বর—ঘোড়াশাল ট্র্যাজেডি দিবস। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে, বিজয়ের মাত্র ৯ দিন আগে তৎকালীন কালীগঞ্জ থানার আওতাধীন ঘোড়াশালের আটিয়াগাঁও গ্রামে পাক হানাদার বাহিনী চালায় এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। দখলদার বাহিনী ও রাজাকারদের সহযোগিতায় পরিচালিত সেই বর্বরতায় এক উঠোনেই প্রাণ হারান নারী–পুরুষ ও শিশুসহ ১৮ জন নিরীহ মানুষ। আর সেই ভয়াল স্মৃতি আজও হৃদয়ে জেগে ওঠে ঘোড়াশালবাসীর।

এলাকার প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান—১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আবুল কাসেমের বাড়ি ঘিরে ফেলে পাক বাহিনী। মুহূর্তের মধ্যে গুলি বর্ষণ, লুটপাট আর অগ্নিসংযোগে লণ্ডভণ্ড করে দেওয়া হয় তার বাড়িসহ আশপাশের ১০-১২টি পরিবার। জীবন বাঁচাতে আবুল কাসেম পরিবারসহ মাটির গর্তে লুকিয়েছিলেন, ফলত প্রাণে বাঁচলেও ভয়াবহ সেই দৃশ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি।

এদিকে পালিয়ে থাকা প্রতিবেশী নারী–পুরুষ ও শিশুকে বাড়ির দরজা ভেঙে টেনে এনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একের পর এক গুলি ছুড়ে হত্যা করে নরপিশাচরা। ঘটনাস্থলেই শহীদ হন—মোকছেদ আলী, মালাবাং, শাহাজাহান, রহম আলী, আ. হেকিম, হযরত আলী, আম্বিয়া খাতুন, মজিদা, আয়শা ও তার শিশু সন্তান, শাহাজ উদ্দিন শাহা, নেহাজউদ্দিন চুইল্লা, নেজু প্রমুখ। গুরুতর আহত হন অন্তত ৬ জন।

স্বাধীনতার বহু বছর পর মৃত্যুবরণ করেন আবুল কাসেম—যার বাড়িতেই সংঘটিত হয়েছিল এই অমানবিক হত্যাযজ্ঞ। অথচ দীর্ঘ ৫৪ বছরেও শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে নেয়া হয়নি কোনো সরকারি উদ্যোগ। নেই স্মৃতিস্তম্ভ, নেই কোনো স্মারক ফলক। প্রশাসনের উদাসীনতায় নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশই জানে না ঘোড়াশালের এই শোকাবহ ইতিহাস।

স্থানীয়দের অভিযোগ—দেশে একাধিক সরকার ক্ষমতায় এলেও ঘোড়াশাল ট্র্যাজেডির স্মরণে কোনো দলই পালন করেনি কার্যকর কর্মসূচি। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী জানান, “এ ইতিহাস ভুলে যাওয়ার নয়, বরং জাতির নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে ঘোড়াশালের এই ত্যাগ ও বেদনাবিধুর অধ্যায়।”

তাদের দাবি—শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, স্থায়ী স্মারক নির্মাণ এবং প্রতিবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণে সরকারি কর্মসূচি গ্রহণ সময়ের দাবি। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে এ হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানান তারা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ে ওঠার আজকের দিনে ঘোড়াশালবাসীর কণ্ঠে একটাই প্রত্যাশা
“যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের ইতিহাস যেন বিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে না যায়।”

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By Rahat IT Ltd.