কক্সবাজারের টেকনাফে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ইউপি সদস্য মো. ইউনূস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে আরও এক ধাপ অগ্রগতি এসেছে। ঘটনার এক মাস না পেরোতেই এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি রেজাউল করিম (৩৬)–কে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব–১৫। সংস্থাটির দাবি—এটি মামলার তদন্তে “গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু”।
দাওয়াতের আসর থেকেই সংঘর্ষ, এরপর অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি । র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ০৪ নভেম্বর রাতে টেকনাফের রঙ্গীখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ফুলের ডেইলের স্থানীয় মো. আলমের বাড়িতে দাওয়াতে যান ইউনূস মেম্বার। সেখানে উপস্থিত ১০–১১ জনের সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে—সেই সুযোগে ইউনূস মেম্বারকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ৬০–৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং মুক্তিপণ না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে তার স্ত্রী ও স্থানীয়রা খোঁজ নিতে গেলে অভিযুক্তরা গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক তৈরি করে।
৩৬ ঘণ্টার মধ্যে রহস্যের পরিসমাপ্তি—ব্রিজের নিচে মিললো লাশ। পরদিন ০৫ নভেম্বর ভোরে ইউনূসের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালের দিকে কক্সবাজার–টেকনাফ সড়কের একটি ব্রিজের নিচে স্থানীয়রা তার মৃতদেহ দেখতে পান। দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ ঘটনা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জাতীয়ভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
পরদিন ০৬ নভেম্বর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ছায়া তদন্ত—সোর্স ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে আসামি শনাক্ত। মামলার পরপরই র্যাব–১৫ ছায়া তদন্ত শুরু করে। মোবাইল কল বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তিগত নজরদারি ও একাধিক সোর্সের তথ্য সমন্বয়ে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
অবশেষে ০৩ ডিসেম্বর রাতে সূত্র ও প্রযুক্তিগত তথ্য মিলে গেলে র্যাব–১৫ এর সদর কোম্পানি ও সিপিসি–১ যৌথ অভিযান চালায়। কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সংলগ্ন একটি বেসরকারি ইউনিয়ন হাসপাতালের ৭ম তলার পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তিনি ৫ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন বলে র্যাব জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি র্যাব–১৫ এর সতর্ক পাহারায় রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতের পরিচয়:
নাম: রেজাউল করিম (৩৬)
পিতা: মৃত আবুল কাশেম
ঠিকানা: দরগাহ পাড়া, ৫নং ওয়ার্ড, হ্নীলা ইউনিয়ন, টেকনাফ, কক্সবাজার
র্যাবের বক্তব্য ,র্যাব–১৫ এর ল’ অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বলেন—
“প্রযুক্তি ও সোর্স—দুই দিক থেকেই যাচাই করে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। রেজাউল করিমের গ্রেপ্তার মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও জানান, মামলার অন্য পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—এটি কি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা?
স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন—এটি সাধারণ অপহরণ নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
তবে তদন্ত সংস্থা বলছে—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
আরও গ্রেপ্তার আসছে?
র্যাব–১৫ জানায়, পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তে কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ না করলেও তারা বলেছে—
“ঘটনার পূর্ণ চিত্র উদঘাটনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমাদের হাতে এসেছে।”
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
গ্রেপ্তার রেজাউল করিমকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে থানায় হস্তান্তর করা হবে।
মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং শিগগিরই আরও অগ্রগতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।