টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় সরকারি সম্পদ রক্ষায় নানা উদ্যোগ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী উপজেলার অন্তত ৮.৮৫ শতাংশ সরকারি জমি বহু বছর ধরে সাধারণ জনগণের অবৈধ দখলে রয়েছে। কেউ ঘর তুলেছেন, কেউ ব্যবসা করছেন, আবার অনেকে ব্যক্তিগত আবাদ করেও জমিকে নিজের মালিকানার মতো ব্যবহার করছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুব হাসান বলেন, “উপজেলার সরকারি খাসজমি জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এসব জমি কেউ অবৈধভাবে ভোগ-দখল করলে তা রাষ্ট্রের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। আমরা নিয়মিতভাবে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত, ম্যাপ মিলিয়ে দেখা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
কেউ যদি সরকারি জমি দখল করে থাকে, তাকে স্বেচ্ছায় দখলমুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না করলে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। এ বিষয়ে কারো প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না—আইন সকলের জন্য সমান।
সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে, কেউ যেন ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বা অন্যের প্ররোচনায় সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ বা চাষাবাদে না যায়। সরকারি সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন জনস্বার্থে সবসময় ন্যায়, সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।”
স্থানীয় সূত্র বলছে, এসব দখল বেশিরভাগই হয়েছে প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি, খাসজমির সঠিক তালিকা হালনাগাদ না থাকা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ার কারণে। ফলে সরকারি সম্পদ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্প, রাস্তা নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জনকল্যাণমূলক কাজে বড় বাধা হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ দখলের এই দীর্ঘস্থায়ী চিত্র বদলাতে জরুরি ভিত্তিতে সঠিক সীমানা নির্ধারণ, দখলকারীদের শনাক্তকরণ এবং আইনানুগ উচ্ছেদ অভিযান দরকার। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ যেন সরকারি সম্পদকে ব্যক্তিগত মালিকানার অংশ মনে না করা হয়।