সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল কাদের (৩৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় নিলুফা খাতুন (৩০) নামের ওই গৃহবধূ কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগকারী নিলুফার পিতা জহুর আলী মল্লিক (৬৫) জানান, ২০১৩ সালে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য্যে তার মেয়ের সঙ্গে আব্দুল কাদেরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আব্দুল কাদের মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ–সহ প্রায় ৭ লাখ টাকা যৌতুক নেয় এবং বিভিন্ন দাবি তুলে নিয়মিতভাবে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।
দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে—সাজ্জিনা (১১)। এ বিষয়ে অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আব্দুল কাদের আবারও ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। নিলুফা টাকা দিতে অস্বীকার করলে তিনি মারধর করে নাতনিসহ স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে নিলুফা পিত্রালয়ে বসবাস করে আসছেন।
এ সময় স্বামী আব্দুল কাদের মোবাইলে তাকে তালাক দেওয়ার হুমকি, বাড়িতে গেলে হত্যার হুমকি—নানা ভয়ভীতি দেখাতেও থাকে। স্থানীয়ভাবে একাধিক শালিস হলেও সমাধান হয়নি। পরে নিলুফা আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার চলমান অবস্থায় গত শুক্রবার আদালতের নির্দেশে নিলুফাকে স্বামী তার বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে দশটার পর ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং প্লাস্টারের কাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন আব্দুল কাদের।
নিলুফার চিৎকার শুনে প্রতিবেশী আরিজুল সরদার ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে রাত ১২টার পর আহত অবস্থায় নিলুফাকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিলুফার গলায় রশির দাগ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
পরিবারের দাবি, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নিলুফাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত আব্দুল কাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।