খুলনায় প্রকাশ্যে দিবালোকে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরের প্রধান ফটকের সামনে কুপিয়ে ও গুলি করে দুই যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ৩০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নগরীর নতুন বাজার এলাকার হাসিব ও নগরীর বাগমারা এলাকার রাজন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসামীরা আদালতে হাজিরা দিয়ে মোটরসাইকেল যোগে বের হওয়ার মুহুর্তে দায়রা জজ আদালতের সামনে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পরে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এদিকে পুলিশের একটি সুত্রে জানা্যায়, নিহত হাসিব ও রাজন কে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু( বি -কোম্পানির) সদস্যরা এ হত্যাকান্ড সংঘটিত করতে পারে বলে ধারনা করছে। নিহত হাসিব ও রাজন একাধিক মামলার আসামী ছিলেন। আজ সকালে একটি অস্ত্র মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সময় তারা এ হত্যাকান্ডের শিকার হন। নিহত হাসিব ও রাজন খুলনার অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য ছিল বলে জানাগেছে। এর আগে কিছুদিন পুর্বে যৌথ বাহিনীর হাতে অস্ত্র সহ তারা গ্রেফতার হন এবং আজ অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সময় আদালতের সামনে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়ে ও কুপিয়ে তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ঘটনার পর পর স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হাসিব ও রাজনের মরদেহ বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা বলে বলে জানাগেছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে নিহত স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এদিকে আদালত চত্বরে হামলার ঘটনায় আইনজীবীরা ও নিরিহ জনসাধারণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্ধিগ্ন এবং আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার ( মিডিয়া) ত, ম করীম বলেন, আদালতের সামনে দুইজনকে গুলি করা হয়েছে – সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং হামকারীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহ্নত একটি চাপাতি, কার্তুজ, জুতা সহ কিছু কিছু জীনিস জব্দ করেছি। আসামীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছি।