খুলনার একটি এজেন্ট শাখার ৫০ জন গ্রাহকের প্রায় ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ডাচবাংলা ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পাঁচজন উর্ধবতন কর্মকর্তাসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক)। গত সোমবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের জেলা কার্যালয়ের খুলনার সহকারী পরিচালক রকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে খুলনা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন, ডাচবাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম মো: শিরিন, উপ- ব্যবস্থাপক পরিচালক ( ফিনান্সিয়াল ইনকুশন) মো: সাহাদাৎ হোসেন, ফিনান্সিয়াল ইনকুশন কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান ফরহাদ মাহমুদ, প্রধান কার্যালয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আহাম্মেদ আসলাম আল ফেরদৌস, খুলনা এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসের সাবেক রিজিওনাল হেড এ এইচ এম কামরুজ্জামান, সাবেক এরিয়া ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম, এজেন্ট শাখার আউটলেট রিলেশন অফিসার পলি খাতুন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা মুন মানহার মালিক এস এম সোহেল মাহমুদ ও আড়ংঘাটা বাজার এজেন্ট শাখার টেলার আবদুল হান্নান। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ডাচবাংলা ব্যাংক পিএলসি রকেট এ্যান্ড এজেন্ট ব্যাংকিং অফিস খুলনার আওতাধীন ” মুন মানহা” এজেন্ট শাখায় ৫০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা জমা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৯৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে। মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক রকিবুল জানান, ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর ডাচবাংলা ব্যাংকের নিয়োগ করা এজেন্ট হিসেবে আড়ংঘাটা বাজারে ” মুন মানহা ” নামের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে শাখাটি বন্ধ হয়ে যায় এবং শাখার এজেন্ট এস এম সোহেল মাহমুদ সহ অন্যান্যরা আত্মগোপন করেন। অভিযোগটি অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন হয়। তদন্তে ঔই তিন ব্যাক্তি সহ খুলনার রিজিওনাল অফিসের কর্মকর্তাদের তদারকি ও মনিটরিং ব্যবস্থাপনার চরম উদাসিনতা ছিল বলে উঠে আসে। কিন্তু ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে মুন মানহা এজেন্ট শাখার প্রতারিত গরীব গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া কিংবা ব্যাংকের দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত বা তাদের বিষয়ে কোন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়নি। ডাচবাংলা ব্যাংকের নীতিমালা -২০২২ অনুযায়ী এজেন্টর মাধ্যমে কোনো অনিয়ম , প্রতারণা বা আত্মসাতের ঘটনা ঘটলে গ্রাহকদের জমা অর্থ ফেরত প্রদান সহ যাবতীয় দায়- দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর বর্তায় বলে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। তার পরও ব্যাংক এই গরীব গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ না করে ঘোরাতে থাকে। এজন্য প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।