দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ‘পিআর’ বা সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির আলোচনা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ জোরালো। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন পদ্ধতিটি সম্পর্কে দেশের বিশাল সংখ্যক গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ন্যূনতম ধারণা নেই।
ফলে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অন্যতম ভিত্তি নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েই এক প্রকার অস্পষ্টতা ও গণ-অজ্ঞতা বিরাজ করছে।
’পিআর’ পদ্ধতি কী?
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা ‘পিআর’ পদ্ধতি হলো এমন এক নির্বাচন ব্যবস্থা, যেখানে কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে যে পরিমাণ ভোট পায়, ঠিক সেই অনুপাতে তারা আইনসভায় আসন লাভ করে।
সংক্ষেপে: প্রচলিত ‘ফাস্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ (First-Past-The-Post) পদ্ধতিতে যিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই জেতেন।
কিন্তু পিআর পদ্ধতিতে, প্রাপ্ত ভোটের শতাংশের ওপর ভিত্তি করে দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষুদ্র দল এবং সংখ্যালঘুদেরও সংসদে ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব দেওয়া।
গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক অজ্ঞতা পিআর পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যতই আলোচনা হোক না কেন, গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষ এই পদ্ধতির নাম বা কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানেন না।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তাদের কাছেও এই জটিল পদ্ধতিটি পরিষ্কার নয়।
ভোটের সরলীকরণ: দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত পদ্ধতিতে অভ্যস্ত মানুষজন জানেন, তারা একজন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি ভোট দেন। পিআর পদ্ধতিতে প্রার্থীর চেয়ে দলের গুরুত্ব বেশি হওয়ায়, সাধারণ ভোটারদের কাছে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল মনে হচ্ছে।
প্রচারণার অভাব: নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এই নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে গ্রামীণ পর্যায়ে কোনো কার্যকর প্রচার বা শিক্ষামূলক কর্মসূচির উদ্যোগ দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, “আমরা তো এতদিন প্রতীক দেখে ভোট দিয়েছি, একজন মানুষ জেতার মানেই সে আমাদের প্রতিনিধি।
এই পিআর সিস্টেমে নাকি দল আসন পাবে! এটা আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে একেবারেই নতুন আর কেমন যেন গোলমেলে।”স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণে প্রভাব বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে তাদের ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ও স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক।
সমাজবিজ্ঞানী বিশেষজ্ঞদের মতে – আপনারা একটি এই বিষয়ে মন্তব্য করেন, “যে কোনো নির্বাচন সংস্কারের আগে, জনগণের কাছে এর কার্যকারিতা বোধগম্য হওয়া জরুরি।
যদি গ্রামের মানুষ পিআর পদ্ধতির মৌলিক ধারণা এবং এর সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে না জানে, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
দ্রুত গণমাধ্যম এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা উচিত।”দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া কোন পথে এগোবে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে এই ‘পিআর’ পদ্ধতির সঠিক ব্যাখ্যা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। অন্যথায়, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অজ্ঞতা গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী হয়ে দাঁড়াতে পারে।