পুলিশের মহাপরিদর্শক ( আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, ” গত ফ্যাস্টিস্ট আমলে যে পরিমান কলংক আমাদের ওপর চেপেছে, এটি শুধরাতে সময় লাগবে। এটা ওত সহজে যাবে না। কিন্তু নির্বাচনটা আমরা করে ফেলতে পারবো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ৪৩ হাজার সেন্টারের কয়টি সেন্টার বন্ধ করবেন? ৫০০ সেন্টার বন্ধ করবেন, রি- ইলেকশন হবে। ৪২ হাজার ৫০০ সেন্টার করে ফেলবো। ৪২ হাজারে হয়ে যাবে, ৪১ হাজারে হয়ে যাবে। নির্বাচন ঠেকাতে পারবেন না। কারন মানুষ নির্বাচনমুখী। এটাই হচ্ছে বড় শক্তি”। গতকাল বিকালে খুলনা মহানগরীর বয়রাস্থ অবস্থিত পুলিশ লাইন্সে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আইজিপি বলেন, মানুষ নির্বাচনকে স্বাগত জানাচ্ছে। উদগ্রীব হয়ে মানুষ অপেক্ষা করছে নির্বাচনের জন্য। কাজেই এখানে যেসব বাধা -বিপত্তি আছে, বিশৃঙ্খলা আছে, অপরাধ আছে, সন্ত্রাস আছে – আমার বিশ্বাস সমাজের কোন লোকই চায় না, আর যেহেতু সবাই নির্বাচনের ব্যপারে উদগ্রীব প্রত্যেকেই আমাদেরকে সহযোগিতা করবে। সমাজের সবচেয়ে সচেতন আপনারা ( সাংবাদিক) । আপনাদের কাছ থেকে খবর পাই। আমার বিশ্বাস আমাদের হাতে যে দুই মাস সময় আছে, আমরা অবশ্যই দমন করতে পারবো। নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বন্ধে পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে, সমাজের প্রতিটি মানুষ। পুলিশের একার পক্ষে বল প্রয়োগ করে এই নাশকতা শেষ করা অথবা মোকাবিলা করা সম্ভব না, যতক্ষন না সমাজের সবাই আমাদেরকে সাহায্য করছে। আমার বিশ্বাস আমরা পারবো। আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ” আগে পুলিশ যে রুপে ছিল – কিছু হলে একজনকে ধরে নিয়ে আটকে ফেলা। কোর্টকে জানানোর কোনও প্রয়োজন ছিল না। তিন দিন আটকে রাখলাম, এক মাস আটকে রাখলাম। অথবা ক্রস ফায়ারের নামে খুন করে ফেললাম। এই যে অন্যায়, অত্যাচার করে টিকে থাকা এটাত সবলতার লক্ষন নয়। সবল কতৃপক্ষ বা সবল সরকার কি মানুষের ওপর অত্যাচার করে? অত্যাচার কে করে? করেতো একটা দুর্বল সরকার। যার আইনি ভিত্তি নেই। যার নৈতিক শক্তি নেই। তার জন্য দরকার হয় মানুষকে অত্যাচার করা,গুলি করা, লাঠি দিয়ে আঘাত করা, মানুষকে গুম করে ফেলা। এসব কাজ গুলো দুর্বল কতৃপক্ষের বৈশিষ্ট্য। আমি মনে করি – আমরা নৈতিক ভাবে এখন অনেক শক্তিশালী। তিনি বলেন, আমরা যখন ডিউটিতে যাই, পুলিশকে অনেক সময় মানুষ এক্সসেপ্ট করতে পারে না। তাদের সেই স্মৃতি মনে পড়ে। যে এই পুলিশত আমাকে গুলি করেছিল। তার জন্য অনেক সময় আক্রমন করতে আসে। অনেক সময় আসামি ছিনিয়ে নিতে আসে। আমরা অত্যান্ত ধৈর্য্যের সঙ্গে এগুলো মোকাবিলা করি। আমরা এখানে গুলি করে মানুষকে মারি না, জোর করে লাঠি পেটা করি না, গ্যাস মারি না। আমরা কিন্তু এই জায়গায় টলারেন্স। আমরা সেই পুলিশ হতে চাই না গালি দিয়ে গুলি করবে। সন্ত্রাসীরা জানে যে ধরা পড়লে ক্রসফায়ার, ধরা পড়লে গুম। এই ভয় দিয়ে আমি সন্ত্রাস দমন করতে চাই না। আমি রুলসের মধ্য দিয়েই ধরা পড়লে ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোর্টে পাঠাবো। চার্জশিট দেব, ঔইখানে বিচার হবে। এর মধ্য দিয়েই আমি সন্ত্রাস দমন করবো। আমি ক্রসফায়ার দিয়ে দমন করতে চাই না। আইজিপি বলেন, পুলিশের সবগুলো ইউনিটিতে আমাদের প্রশিক্ষণ চলছে। নির্বাচনে আগের চেয়ে এবার দায়িত্ব পালন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার চাচ্ছে এই নির্বাচন সবচেয়ে ফ্রি, ফেয়ার এবং উৎসবমুখর হবে। এজন্য আমাদের দায়িত্বটা আমরা যেন সবচেয়ে ভালোভাবে পালন করতে পারি,সেজন্য আমরা নিজেরাই প্রশিক্ষিত হচ্ছি। গত তিনটি নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক আছে, নানা সমালোচনা আছে। সেই সব সমালোচনা থেকে আমরা যেন বেরিয়ে আসতে পারি। সকলের সহায়তায় শান্তি- শৃঙ্খলা বজায় রেখে একটি সফল নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা ভুমিকা পালন করতে পারি। সেই বিষয়ে সকলকে মনে করিয়ে দিতে সকলের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই খুবই উজ্জীবিত। ইনশাআল্লাহ – নির্বাচনে আমাদের ওপর যে দায়িত্ব এসেছে, সেটা পালন করতে পারবো। বিতর্কিত পুলিশ সদস্যদের তালিকা করা হয়েছে কিনা? নির্বাচন পরিচালনায় তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ” তালিকা করা হয়নি। তনে এসপি, ডিআইজি যাকে মনে করছেন নির্বাচনের সময় উনি যথাযথ দায়িত্ব পালন করবেন না, তাদেরকে চিহ্নিত করছেন। জানুয়ারিতে আমরা তাদের এই সংখ্যাটা বিবেচনায় নেব”। পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা ঘটনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ” খুব বেশি সংখ্যক মামলার চার্জশিট হয় নি। আমাদের খুনের মামলা ১৯ টি হয়েছে। আর খুনের বাহিরে ৩৬ টি। গত এক বছরে প্রথম ৫-৬ মাস তদন্তের অগ্রগতি তেমন একটা হয়নি। তার পরের ৬ মাসে আমরা কিছুটা গুছিয়ে আনতে পেরেছি। এই বছরে আমার বিশ্বাস অনেক মামলা শেষ করে আনবো। কতজন পুলিশ চার্জশিটে রয়েছে এই মুহূর্তে সংখ্যাটা কাছে নেই। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে অন্তত ২১ জনকে গ্রেফতার করে পাঠিয়েছি। এর বাহিরে হয়তো আরোও ৩০-৩১ জন আছে, তাদেরকে এখনো পারিনি”।