পেঁয়াজ সংরক্ষণে শিবচরের কৃষকদের মাঝে ১১০টি এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরণ
আপডেট সময় :
বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
০
দেখেছেন
দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায় বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এই সমস্যা সমাধানে পেঁয়াজ সংরক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পদ্ধতি চালু করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
এর অংশ হিসেবে সারাদেশে প্রায় ৪ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন (বাতাস প্রবাহ যন্ত্র) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ১১০ জন কৃষকের মাঝে এই এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি অফিসের সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে এ মেশিন তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মেশিন ব্যবহারের নিয়মাবলি সম্পর্কে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি ও যুব উন্নয়ন অফিসার মো. বেলায়েত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম, সহকারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষক সোহাগ মিয়া বলেন, “গত বছর ৩০ শতক জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম, দাম না থাকায় বিক্রি করিনি। অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। এবার সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ মেশিন পেয়েছি, আশা করি ক্ষতি হবে না।”
আরেক কৃষক লাভলু হাওলাদার বলেন, “আগে মাটিতে বা ঘরের মেঝেতে রাখলে পেঁয়াজ পচে যেত। এখন মেশিনে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।”
যুব উন্নয়ন অফিসার বেলায়েত হোসেন বলেন, “কৃষি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান খাত। কৃষকদের ফসল সংরক্ষণের সুবিধার্থে সরকার নিয়মিত নতুন প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। এ মেশিন ব্যবহারে কৃষকরা উপকৃত হবেন এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “পেঁয়াজ একটি পচনশীল ফসল। মৌসুমে দাম কম থাকায় কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়েন। এয়ার-ফ্লো মেশিনে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মণ পেঁয়াজ ৯ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। প্রতিটি মেশিনের দাম ২১ হাজার টাকা এবং বাড়িতে সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত ৬ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।”