ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইস ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া গ্রামটি এখন মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে। প্রতিদিনই নদী গ্রাস করছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পুরো গ্রামটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে নদী গিলে নিয়েছে একটি বসতবাড়ি, সরকারি ইটের রাস্তা ও অসংখ্য ফলজ-বনজ গাছপালা। ইতোমধ্যে একটি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে ভাঙনের কবলে। বর্তমানে নদীর স্রোত এসে আঘাত করছে এমপি ভুক্ত আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা ও মোকসেদ মোল্লার এতিমখানার পাশে। এলাকাবাসী আশঙ্কা করছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এসব প্রতিষ্ঠানও নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।
চরখোলাবাড়িয়ার বাসিন্দা আজিজ মোল্লা বলেন, “নদীভাঙনে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। উপজেলা প্রশাসনের কাছে বহুবার জিও ব্যাগ ফেলার আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন ভয় নিয়ে ঘুমাই—আজ না হয় কাল নদী আমাদের ঘরটাও নিয়ে যাবে।”
গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই দিনমজুর ও কৃষক। তাদের কারও অন্য কোথাও জমি কেনার সামর্থ্য নেই। বহু পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। ভাঙনের কারণে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, কৃষিজমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে জিও ব্যাগ ফেলে নদীর পাড় সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় মধুমতির ভয়াল থাবায় চরখোলাবাড়িয়া মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।