খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি’র মিলনায়তনে বেলা ১১ টায় পলিথিন বর্জনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গনতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চ খুলনা এর আয়োজক। খুলনায় এ ধরনের অনুষ্ঠান এই প্রথম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি’র আহবায়ক এ্যাড: আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক ও আয়কর আইনজীবী সমিতি’র এ্যাড: খান মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, খুবির প্রাক্তন মেডিকেল অফিসার ডা: এ কে এম কামরুল ইসলাম। বক্তব্যে রাখেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব কাজী মোতাহার রহমান বাবু, সদস্য এ্যাডঃ মমিনুল ইসলাম, সরদার আবু তাহের, অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন, এ্যাড: জোবায়ের শেখ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে সভায় বলা হয় সুন্দরবনের প্রধান তিনটি নদ নদীতে ১৭ প্রজাতির মাছ ও তিন প্রজাতির সেলফিশে মাইক্রো প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এমনকি বনে মাছের পেটে পলিথিনের টুকরো পাওয়া গেছে। পলিথিন রাসায়নিক বিষক্রিয়ায় ভুপৃষ্ঠ ক্রমাগত উত্তপ্ত হচ্ছে। যা থেকে ভুমিকম্প ও বজ্রপাত হচ্ছে। দেশে প্রতিদিন ২৪ হাজার মেট্রিকটন পলিথিন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। পলিথিন মাটিতে মিশে মাটির গুনাগুন, উর্বরতা শক্তি নষ্ট করছে, সৃষ্টি করছে জলাবদ্ধতা, কমিয়ে দিচ্ছে নদীর নাব্যতা। সভায় বলা হয়, যুক্ত্রারাস্ট্র ভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িক ওয়াটার এয়ার সয়েল পলিউশনের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে ইলিশের পেটে মাইক্রো প্লাস্টিকের কনা পাওয়া গেছে। যা থেকে ক্যানসার ঝুঁকি রয়েছে। সভায় উল্লেখ করা হয়, ২০৬০ সালের প্লাস্টিকের ব্যবহার তিন গুন হতে পারে। ২০২৪ সালে প্লাস্টিক বর্জ্য এর পরিমান মাটি ও পানিতে ৫০ শতাংশ বাড়বে। উল্লেখ্য এ সংগঠনের সদস্যেরা পলিথিন বর্জনের শপথ, প্রতিবেশী ও স্বজনদের পলিথিন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন। উৎপাদন, বিক্রি ও বাজারজাত করন বন্ধ করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতি আহবান জানান। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাহলেই ভবিষ্যত প্রজন্ম বাসযোগ্য খুলনা নগরী পাবে। অনুষ্ঠানে এ মাসেই পলিথিন বর্জনে শতাধিক আইনজীবী শপথ গ্রহণ করবেন বলে জেলা আইনজীবী সমিতি’র আহবায়ক প্রতিশ্রুতি দেন।