গতকাল শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সারাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। ঢাকাসহ নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল ও বিকেলে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিতে জামায়াতের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার-ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা নিয়ে শ্লোগান দেন। জেলা এবং উপজেলায় প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশে মিলিত হন তারা। কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে চলমান নির্বাচনী ব্যবস্থা জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত করতে পারছে না। এতে সাধারণ ভোটাররা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই নির্বাচন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে পি.আর. (Proportional Representation) ভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু করা জরুরি। এই ব্যবস্থায় প্রতিটি দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সংসদে আসন বণ্টন হবে, ফলে সকল রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে এবং জনগণের ভোট সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে।
বক্তারা আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত করতে হলে জনগণের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় শর্ত। পি.আর. পদ্ধতি চালু হলে দেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রিক সংঘাত ও অনাস্থার পরিবেশও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
দাবিসমূহ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে জামায়াতে ইসলামী কয়েকটি দাবি তুলে ধরে—
১. অনতিবিলম্বে পি.আর. ভিত্তিক নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
২. নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা।
৩. বিরোধী মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
৪. নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টি করা।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি জেলায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বিশ্বাস প্রকাশ করেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে পি.আর. ভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও সুদৃঢ় হবে।