আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। রাজনৈতিক দলগুলোতেও চলছে ভোটের প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে জামায়াত ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী চুড়ান্ত করেছে। দেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি দেশের বিভিন্ন আসনে প্রার্থী চুড়ান্ত করে তাদের কাজ শুরু নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাতিক্রম শুধু খুলনা অঞ্চলের আসন গুলোতে। বিশেষ করে খুলনার ৬ টি আসনে প্রার্থী নির্ধারন নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতৃত্ব। তাই প্রার্থীরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। চুড়ান্ত ভোটের আগে দলের মধ্যেই প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে তাদের।খোজ নিয়ে দেখাগেছে, খুলনার দাকোপ – বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে খুলনা- ১ আসনে বিগত ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আমীর এজাজ খান। আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে বিবেচিত ঔই এলাকায় বিএনপির কোন নেতাই নির্বাচনের সাহস করতেন না। তখন থেকেই আসনটিতে কাজ করেছেন আমীর এজাজ খান।অভ্যুত্থানের পর এলাকায় আরো বেশি সক্রিয় হয়েছেন তিনি। প্রায় প্রতি সপ্তাহে নির্বাচনি আসনের কোনো না কোনো এলাকায় কর্মসুচি পালন করতে দেখা যায় তাকে। তবে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ভেঙে দিলে কিছুটা চাপে পড়েন আমীর এজাজ খান। সেই চাপ নিয়েই ভোটের মাঠে আধিপত্য ধরে রেখেছেন তিনি। আসনটিতে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি জিয়াউর রহমান পাপুল।তিনিও নিয়মিত নির্বাচনী প্রচারণামুলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তার পক্ষে জেলা বিএনপির অনেক নেতা প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।দুই নেতাই মনোনয়নের বিষয়ে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।
মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচিত খুলনা – ২ আসনে প্রার্থী নির্ধারন নিয়ে জটিল সমীকরনের মুখে পড়েছে বিএনপি। খুলনা মহানগর বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন প্রার্থী হতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটের মাঠে তৎপর রয়েছেন এই আসনের সাবেক এমপি ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিভেদের রাজনীতিতে এই দুই নেতা দলের দুটি অংশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর মধ্যে বিএনপির আরেকটি অংশ আসনটিতে জিয়া পরিবারের কাউকে প্রার্থী করার দাবি তুলছেন।
খালিশপুর,দৌলতপুর, খানজাহানআলী থানার একাংশ নিয়ে গঠিত খুলনা- ৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরেই তৎপর বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির সব নেতাই তার অনুসারী। এর আগেও তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা- ৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে লড়েছেন। এলাকায় তার প্রচারণা চলছে জোরেশোরে। তবে খুলনা মহানগর বিএনপির আগের কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলামও আসনটি থেকে প্রার্থী হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তার সঙ্গে সাবেক কমিটির নেতারা মাঠে রয়েছেন।
রুপসা- দিঘলিয়া – তেরখাদা নিয়ে গঠিত খুলনা- ৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। ২০১৮ সালে এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন তিনি। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মল্লিক। সম্প্রতি তিনি এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খুলনা – ৫ আসনে ( ডুমুরিয়া – ফুলতলা) বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কাজ শুরু করেছেন খুলনা – ২ আসনের সাবেক এমপি ও বিসিবির সাবেক পরিচালক আলী আজগর লবি। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা খুলনায় এসে তার পক্ষে কাজ করতে অন্য নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশে অনেকেই প্রার্থী হওয়ার তৎপরতা বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক সহ সভাপতি শফি মোহাম্মাদ খান। আলী আজগর লবির পাশাপাশি তাকেও এলাকায় প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে।
কয়রা- পাইকগাছা নিয়ে গঠিত খুলনা- ৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী ও বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন। প্রায়ই তারা এলাকার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এ আসনে বিএনপির জেলা নেতারা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের তেমন তৎপরতা দেখা যায় না।