দীর্ঘ দিন পর আগামী ১ অক্টোবর থেকে নগরীতে ফিরে আসছে নতুন আঙ্গিকে নগর পরিবহন। কেউ কেউ একে বলে টাউন সার্ভিস, নগর পরিবহন লক্কর ঝক্কর মার্কা হওয়ার কারনে উপহাস করে কেউ কেউ বলে মুড়ির টিন। অথচ সেই মুড়ির টিন আসছে এবার নতুনভাবে। প্রথমে পরিক্ষামুলকভাবে দুটি বাস দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। বিআরটিসির তত্ত্বাবধানে ফুলতলা টু রুপসা পর্যন্ত এ বাস চলবে। গতকাল খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অংশিজনদের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন খুলনা বাস ডিপোতে বরাদ্দকৃত দুটি বাস নির্ধারন বিষয়ক অংশীজনের সভায় অংশ নেন কেসিসির প্রধান প্রকোশলী মো: মশিউজ্জামান খান, সাবেক কাউন্সিলর মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব এ্যাড: হাফিজুর রহমান, নিজামুর রহমান লালু সহ নাগরিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। অংশিজন হাফিজুর রহমান বলেন, ৪৫ সিট বিশিষ্ট ২ টি বাস প্রাথমিক পর্যায়ে চলবে। একটি চলবে ফুলতলা টু রুপসা যশোর রোড দিয়ে। অপরটি চলবে ফুলতলা টু রুপসা খালিশপুর বিআইডিসি রোড হয়ে জোড়াগেট দিয়ে বের হয়ে রুপসা যাবে। তবে ভাড়া কেমন রাখা হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে সফলতা আসলে আরো দুটি বাস নামনো হবে। সে দুটি বাস ফুলতলা হয়ে আফিলগেট দিয়ে বাইপাস সড়ক ধরে রুপসা ফেরিঘাট যাবে। আরেক অংশিজন মাস্টার শফিকুল আলম বলেন, সভায় প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি বাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যদি কোন প্রতিবন্ধকতা না আসে তবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে বিআরটিসির তত্ত্বাবধানে দুটি বাস চলাচল করবে। তবে সভায় সিএনজি ও ইজিবাইক সংগঠনের নেতাদের দাওয়াত দেওয়া হলেও তারা কেউ ছিল না। যার জন্য প্রশাসক সামনে আরোও একটি সভা সবাইকে নিয়ে করবেন। তারপর বাস দুটি চালু করবেন। তবে এ উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। একই সাথে প্রশাসককে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা্যায়, আশ্বাস প্রতিশ্রুতি দিয়েও খুলনায় চালু হচ্ছে না নগর পরিবহন। ফলে তিন চাকার বাহনে দ্ধিগুনের বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্য যেতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থী সহ নিন্ম আয়ের মানুষ। এছাড়া তিন চাকার বাহনে বেপরোয়া চলাচলে দুর্ঘটনা, যানযট সহ নানা কারনে নাকাল নগরবাসী। মুলত আর্থিক ক্ষতির কারনে পরিবহন সেবা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা। তাই দ্রুত সড়ক সংস্কার ও আধুনিক নগর পরিবহনের দাবি নগরবাসীর। সেই দাবির প্রেক্ষিতে কেসিসির প্রসাশক মো: ফিরোজ সরকার নগর পরিবহন চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, খুলনা শহরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের বাস। বর্তমানে নগরীতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার তিন চাকার বাহন চলাচল করে। আর লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন তিন চাকার বাহনে যাতায়ত করেন। নগর পরিবহন না থাকায় এসব যাত্রীদের মাসে অতিরিক্ত ব্যয় হয় অন্তত এক কোটি টাকা। ৯০ এর দশকে খুলনার দুটি রুট রুপসা থেকে ফুলতলা ও রুপসা থেকে শাহপুর পর্যন্ত অর্ধশতাধীক বাস চলাচল করতো। আর্থিক ক্ষতির মুখে ২০০৫ সাল থেকে নগর পরিবহন বন্ধ শুরু হয়। গনপরিবহন সংকট নিরসনে ২০১৬ সালের ১১ জুন পাঁচটি দোতলা বাস( ডাবল ডেকার) চালু করলেও অল্পদিনে বন্ধ হয়ে যায় রাস্ট্রিয় পরিবহন ” বিআরটিসির ” এ সার্ভিসটি। ২০১৮ সালে শহরে নগর পরিবহন সেবা বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। একই বছরে অনুষ্ঠিত হয় খুলবা সিটি করপোরেশন ( কেসিসি) নির্বাচন। ঔই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক নির্বাচনী ইশতেহারে ” নগর পরিবহন ” পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পান। তবে চার বছর ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ২০১৯ সালে খুলনা মটর বাস মালিক সমিতির উদ্যোগে ৪ টি গনপরিবহন চালু হয়। কিন্তু ইজিবাইক মহেন্দ্রা ও সিএনজির সাথে সম্পৃক্ত থাকা প্রভাবশালীদের কাছে হার মেনে সেগুলো ফের বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০২২ সালের আগষ্টে ৬ টি বাস রাস্তায় নামানো হলেও দুমাসের মধ্যে আবারও মুখ থুবড়ে পড়ে।