সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের তারুখাল গ্রামে ফয়জুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীর পুকুরে বিষ ঢেলে পনেরো লক্ষ টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ফয়জুর রহমান (৫৬) জানান, তিনি দীর্ঘ ২০/২৫ বছর ধরে পুকুরে মাছের চাষ করে আসছেন। দুই বিঘা আয়তনের ওই পুকুরে নিয়মিত পোনা ফেলে পরিচর্যা এবং বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের কিছু ভূমিদস্যু তার পুকুর ও বসতভিটা দখলের পায়তারা চালাচ্ছিল।
ফয়জুর রহমানের অভিযোগ, ৩১ আগস্ট দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে মাসুম আহমদ, হারুন মিয়া, আব্দুল খালিক, রেজাউল ইসলাম রাজু, ফখরুল ইসলাম, তৈয়বুর রহমান, মিছির আলী সহ আরও কয়েকজন সশস্ত্র অবস্থায় তার বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির সীমানা
পিলার প্রায় ২ হাত সরিয়ে নেন ও বাঁশের বেড়া ও গাছপালা ভাঙচুর করে। এতে প্রায় এক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে, যখন মাসুম আহমদ তার হাতে থাকা বিষাক্ত তরল পদার্থ পুকুরে ঢেলে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পানির ওপর ভেসে উঠে মারা যায়। এতে প্রায় পনেরো লক্ষ টাকার মাছ নষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি করেছেন ফয়জুর রহমান।
এই সময় তার ভাই হবিবুর রহমান বাধা দিতে গেলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। প্রাণভয়ে তিনি দৌড়ে ঘরে গিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে আত্মরক্ষা করেন।
ফয়জুর রহমান বলেন-এরা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে ও আমার পরিবারকে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। স্থানীয়ভাবে বহুবার সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোন ফল হয়নি। উল্টো তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমার জীবন-জমি হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এখন আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে বিষ ঢেলে মাছ মেরে ফেলার এমন ঘটনা নজিরবিহীন। তারা দাবি করেছেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন-ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফয়জুর রহমান ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে জানিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।