দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর হালদা মোহনায় আরও একটি বড় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয় মৎস্য দপ্তর ২৪ আগস্ট দুপুরে অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহারের অভিযোগে ২০ হাজার মিটার দীর্ঘ একটি জাল জব্দ করে সেটিকে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এই অভিযান পরিচালনা করার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হাসানের নেতৃত্বে একটি দল গঠন করা হয়। অভিযানের সময় দেখা যায়, কিছু জেলে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছে, যা দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। মৎস্য কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, জেলেরা সতর্ক জানিয়েও অবৈধ পদ্ধতি থেকে বাদ যাচ্ছেন না। নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র এবং জলের প্রাণবৈচিত্র্যে বিপর্যয় ঘটে, ফলে এটি দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদে বিরূপ প্রভাব ফেলে।
নাঈম হাসান গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা জেলেদের বারবার নিষেধ করার পরও তারা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করে। এটি আমাদের দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই আমরা জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করেছি।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অভিযান আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এবং দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
জব্দকৃত জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। অভিযানটিতে বোয়ালখালী থানা পুলিশের একটি টিমও উপস্থিত ছিল, যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করতে সহযোগিতা করেছেন।
স্থানীয় জনগণ এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কার্যক্রম দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে একটি গুরুতর পদক্ষেপ এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার অবৈধ মৎস্য শিকার প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
এছাড়া, এলাকার মৎস্যজীবীরা নিজেদের পেশা রক্ষায় সচেতন হতে এবং বৈধ পদ্ধতিতে মাছ ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে আধুনিক ও বৈধ পদ্ধতিতে মাছ ধরার কৌশল জানা যায়। এতে স্থানীয় মৎস্যসম্পদের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সম্ভব হবে।