মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয়রা। শনিবার বিকেলে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. গোলাম ইয়াছিন, বাঘুটিয়া আলিম মাদ্রাসার সাবেক সুপার তাজুল ইসলামসহ ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্য। বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৭ মে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার সময় শর্ত ছিল—সীমানা অতিক্রম করে বালু উত্তোলন করলে ইজারা বাতিল হবে। কিন্তু ওই শর্ত উপেক্ষা করে মহালের বাইরের এলাকা থেকেও বালু তোলা অব্যাহত রয়েছে।এ অবস্থায় নদী ভাঙনে ইতিমধ্যে একটি বাজারসহ অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে। নিজ ভারাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবন সম্পূর্ণ ডুবে গেছে এবং চারতলা ভবনের দুটি মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে রয়েছে।ভুক্তভোগীরা জানান, এর আগে জেলা প্রশাসক ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে গত জুলাই মাসে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনও জেলা প্রশাসককে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও সংশ্লিষ্টদের অপসারণের নির্দেশ দেন।দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন বলেন, “ইজারার সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন করা যাবে না। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ফরিদপুর অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সীমানা অতিক্রম করে বালু তুললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এর আগেও অভিযান চালিয়ে মামলা করেছি।”
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মানোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, “ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ইজারার সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়েছি এবং নিয়মিত মামলা করছি। অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”