জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভাল্লুকগাড়ি গ্রামের রাস্তা নিয়ে জবরদখল।রাস্তাকে কেন্দ্র করে মামলায় অতিষ্ঠ আতোয়ার রহমান সহ ৪ ভাইয়ের পরিবার। আদালতে, থানায়, গ্রামে ও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ ও বৈঠক করেও কোন সূরাহা পাচ্ছেনা তারা। অবশেষে বিচার না পেলে বাড়ি ঘর ছেড়ে দেশান্তর হওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগে জানা যায়, আতোয়ারের বাড়ির সামনের রাস্তাটি নিয়ে একই এলাকার আফজাল আতাউল ও মনিরুজ্জামান বাবুর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে তারা দলবদ্ধ হয়ে আতোয়ারের মাটির দেওয়াল ও বাড়ির সামনে বসার ইটের স্থানটি ভেংগে ফেলে। ভাঙ্গার কারণ জানতে গেলে তারা আমাদের হত্যা করারও হুমকি দেয়। আফজাল আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে অনেক টাকা ক্ষতি করেছে বলেও তিনি জানান।
উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের ভাল্লুকগাড়ি গ্রামের মৃত আফতাবের পুত্র আতোয়ার রহমান বলেন তাদের সম্পত্তি বলতে কিছুই নেই। আছে শুধু বাড়ির ভিটেমাটি। এই সামান্য ভিটেমাটির উপরেই তারা বসবাস করে আসছে দীর্ঘকাল ধরে কিন্তু প্রতিপক্ষ আফজাল রাস্তা বের করতে, উঠে পড়ে লেগেছে। যদিও রাস্তাটি কোন নকশাই নেই। দীর্ঘ ৪-৫ বছর ধরে এ রাস্তাটি বের করতে বহুবার মামলা করেছে। জেল খাটিয়েছে ছোট ভাই নাইদুলকে।
এ বিষয়ে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি মীমাংসা বৈঠক বসে। এই বৈঠকে আতোয়ার ৩ ফিট জায়গা রাস্তার জন্য ছেড়ে দিতে সম্মত হয়। গ্রামবাসীরাও তা মেনে নেয়। পরবর্তীতে গত সোমবার স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে রাস্তার জায়গা মাপ যোগ করা হয় এবং ৭ ফিট প্রশস্ত রাস্তা বের করে খুঁটিপুতে দখল করা হয়। এতে করে আতোয়ারের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও দরোজা পর্যন্ত ভেঙ্গে যাচ্ছে বলে তিনি আপত্তি করেন।
অপর ভাই মতিয়ার রহমান বললেন, রাস্তার জায়গা বের করা নিয়ে আমার বড় ভাইয়ের সঙ্গে গন্ডগোল হচ্ছে হোক কিন্তু আমার টিনের চালাঘর ভাঙলো কেন ? এত অত্যাচার আমরা আর সইতে পারছি না। এ গ্রামেই আর আমরা থাকবো না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের খুঁটি দিয়ে টিনের ঘর করছে প্রতিপক্ষ আফজাল। তাদের দাবি ২০ বছর ধরে আতোয়ার আমাদের ২’শতক জমি ভোগদখল করে রেখেছিল এখন আমরা ঘর করছি। আফজাল আরো বলেন, তারা আমিন দিয়ে মাপযোগ করুক,তাদের জমি কম হলে আমরা জমি ছেড়ে দিব।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য একরামুল হোসেন বলেন, এই রাস্তার জায়গা কে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ৪-৫ বছর ধরে দুপক্ষের গন্ডগোলে আমরা অতিষ্ঠ। গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে থানা পুলিশের নির্দেশে সরকারি আমিন দিয়ে সঠিক ভাবে মাপ যোগ করা হয়।